জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘জুলাই সনদ দেশবাসীর সম্পদ। যাদের সংসদে প্রতিনিধিত্ব আছে, তারা সবাই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। আমি মনে করি, বিএনপিও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।’
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ জেলা ভোলার সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার এসব কথা বলেন।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘সংসদের বাইরে যেসব রাজনৈতিক দল বিভিন্ন কথা বলে, তারা দলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। যাতে সরকার শান্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে না পারে। যেহেতু বিএনপিসহ সকলে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, সেহেতু সকলে মিলেই এটি বাস্তবায়িত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
স্পিকার আরও বলেন, ‘অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যে ‘‘স্থানীয় সরকার’’ নির্বাচন হয়েছিল, সেগুলো নির্বাচনের নামে প্রহসন মঞ্চস্থ করা হয়েছিল। অনেক দিন পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখেছে। আমরা আশা করব, আগামী দিনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। সরকারের তরফ থেকে যতটুকু প্রয়োজন সহযোগিতা করা হবে।’
হাফিজ বলেন, দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটি দলকে জনগণ দুই-তৃতীয়াংশ ভোট দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে। তাদের দায়িত্ব দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
যোগাযোগব্যবস্থা ভোলার প্রধান সমস্যা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, সবার আগে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। ভোলাবাসীর প্রাণের দাবি ভোলা-বরিশাল সেতু বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরিশালের জনসভায়ও কমিটমেন্ট করেছেন, তিনি সংসদেও বলেছেন। সেতুমন্ত্রীও সংসদে বলেছেন—যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ করা হবে।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘ভোলা বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী জেলা। এ জেলায় প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় একটা রিজার্ভ রয়েছে। আমরা আশা করছি, সরকার এটির যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। বিশেষ করে ভোলায় সার কারখানাসহ গ্যাসভিত্তিক আরও অন্যান্য কলকারখানা হতে পারে। বিদেশি কোনো কোম্পানি যদি এখানে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলে, সবচেয়ে ভালো হয়। তাহলে একদিকে যেমন ভোলাবাসী উপকৃত হবে, অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।’
ভোলার জেলা প্রশাসক শামীম রহমানসহ অন্য সরকারি কর্মকর্তারা এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।