হোম > সারা দেশ > ভোলা

ভরা মৌসুমেও মেঘনায় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ, দুশ্চিন্তায় মনপুরার জেলে পরিবার

মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি

হতাশা আর ঋণের চাপ নিয়েও ইলিশ শিকারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মনপুরার জেলেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বর্ষার ভরা মৌসুম। এ সময়ে মেঘনা নদীতে জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ার কথা। সেই মাছে সরগরম থাকার কথা নদীর ঘাট ও আড়ত। কিন্তু এবার ভিন্ন চিত্র। ভোলার মনপুরা উপজেলার মেঘনা নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মিলছে না। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজারো জেলে। মাছের সংকটে বাড়ছে ঋণের বোঝা, লোকসানের মুখে পড়েছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরাও।

শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার রামনেওয়াজ মৎস্যঘাট, হাজিরহাট মৎস্যঘাট, দক্ষিণ সাকুচিয়া জনতা বাজার মৎস্যঘাট, মাঝেরঘাট, উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের খারির খালসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলেপল্লি ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

জেলেরা জানান, প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নদীতে জাল ফেললেও আশানুরূপ ইলিশ মিলছে না। কেউ অল্প কিছু মাছ নিয়ে ফিরছেন, আবার কেউ ফিরছেন প্রায় খালি হাতে। মাছ বিক্রির অর্থ দিয়ে অনেকেরই জ্বালানি তেল, বরফ ও শ্রমিকের খরচ উঠছে না। ফলে দিন দিন বাড়ছে আর্থিক সংকট। ধারদেনা ও এনজিওর ঋণের চাপও বাড়ছে জেলে পরিবারগুলোর ওপর।

মাঝেরঘাট এলাকার জেলে আব্দুল করিম বলেন, ‘প্রতিদিন নদীতে যাই, কিন্তু মাছ খুব কম পাচ্ছি। আগে এক জালে যত ইলিশ উঠত, এখন কয়েকবার জাল ফেলেও তত মাছ পাওয়া যায় না। সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

রুপালি ইলিশের আশায় মেঘনা নদীতে জাল ফেলছেন জেলেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

জনতা বাজার মৎস্যঘাটের জেলে মো. সেলিম বলেন, ‘তেল, বরফ ও খাবারের খরচ অনেক বেড়েছে। নদীতে গিয়ে যদি মাছই না পাই, তাহলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব? এখন আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।’

ইলিশের সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মাছঘাট ও আড়তগুলোতেও। সরবরাহ কমে যাওয়ায় আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই। এতে ব্যবসায়ীরাও লোকসানের মুখে পড়েছেন।

রামনেওয়াজ মৎস্যঘাটের ব্যবসায়ী মমিন তালুকদার বলেন, ‘ভরা মৌসুমে সাধারণত ঘাট ইলিশে ভরে থাকে। এবার সেই তুলনায় মাছ অনেক কম আসছে। ফলে ব্যবসায় মন্দা চলছে, প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে।’

মনপুরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল বণিক বলেন, ‘ইলিশের চলাচল অনেকটাই নদীর পরিবেশ, জোয়ার-ভাটা ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। মৌসুম এখনো শেষ হয়নি। আগামী দিনগুলোতে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে ইলিশের পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আমরা আশাবাদী।’