ভোলায় যৌতুকের দাবি ও দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগে করা মামলায় স্বামীর জামিন মঞ্জুর হওয়ায় আদালতের এজলাসে বিষ পান করেছেন তারা ভানু (৪৫) নামের এক নারী।
আজ বুধবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের বোরহানউদ্দিন উপজেলা আমলি (ম্যাজিস্ট্রেট) আদালতে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও উপস্থিত লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। তারা ভানুর বাবার বাড়ি জামালপুর জেলায় বলে জানা গেছে।
আদালত, হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তারা ভানু জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট মানিকা গ্রামের বাসিন্দা বাহারউদ্দিনের বিরুদ্ধে যৌতুক ও দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগে একটি মামলা করেন।
আজ বেলা ১টার দিকে আদালতে সেই মামলার অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল। শুনানিতে আসামি বাহারউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সমঝোতার শর্তে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন আদালত এবং মামলার অন্য দুই আসামি শ্বশুর-শাশুড়িকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।
আদালতে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী ও স্থানীয় লোকজন বলেন, সমঝোতার শর্তে স্বামীর জামিনের আদেশ শোনার পরপরই তারা ভানু ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। তিনি আদালতের মধ্যেই নিজের ব্যাগ থেকে ছোট একটি বোতল বের করে বিষ পান করেন। সঙ্গে সঙ্গেই এজলাসের সামনে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনার পরপরই বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন এবং সাময়িকভাবে আদালতের কক্ষ ফাঁকা করে দেওয়া হয়।
ভোলা আদালত পুলিশের পরিদর্শক শেখ মো. নাসির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আজকের পত্রিকাকে বলেন, আদালতের ভেতর গৃহবধূর বিষপানের ঘটনার পরপরই পুলিশ ও উপস্থিত সবার সহযোগিতায় দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক তৈয়বুর রহমান বলেন, রোগীকে হাসপাতালে আনার পর দ্রুত পাকস্থলী পরিষ্কার করে বিষমুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।