সদ্য প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদের জানাজাকে কেন্দ্র করে ভোলায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আজ মঙ্গলবার সকালে জানাজার আগে ভোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। গতকাল সোমবার গভীর রাতে জেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মোটরসাইকেল মহড়া দেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজার প্রস্তুতি চলাকালে জেলা যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের কিছু নেতা-কর্মী সেখানে জড়ো হন। এ সময় তাঁরা জানাজাকে কেন্দ্র করে কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য বা স্লোগান দেওয়া হলে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ টিটুর নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা-কর্মী জানাজাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাঁদের অবস্থান তুলে ধরেন। পরে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রাইসুল আলম ঘটনাস্থলে এসে নেতা-কর্মীদের শান্ত করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আব্দুল লতিফ টিটু বলেন, ২০২২ সালে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাবিতে বিএনপির আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে জেলা ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি নুরে আলম নিহত হন। তখন তাঁর জানাজা ভোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করতে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া সংসদে দাঁড়িয়ে তোফায়েল আহমেদ নুরে আলমের মৃত্যু প্রসঙ্গে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রুবেল বলেন, নুরে আলমের জানাজা নিয়ে অতীতে যে ঘটনা ঘটেছিল, সে কারণে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তবে কোনো উসকানিমূলক স্লোগান বা কর্মকাণ্ড হলে তা প্রতিহত করা হবে।
অন্যদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বাহালুল মোল্লা তোফায়েল আহমেদের জানাজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা ও সহানুভূতি কামনা করেন।
পরে বেলা আড়াইটার দিকে ভোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা এবং বিকেলে সদর উপজেলার কোড়ালিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে তৃতীয় ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাঁকে কোড়ালিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মা ও স্ত্রীর কবরের পাশে দাফন করা হয়।