ভোলার বোরহানউদ্দিনে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার টগবী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার বাড়ির সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে নৌবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৮টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রচারণা দল ভোট চাইতে চৌকিদার বাড়ির সামনে স্লোগান দেয়। এতে ওই বাড়ির বিএনপি কর্মী মো. আইয়ুব বাড়ির সামনে স্লোগান দিতে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নিলে প্রায় এক ঘণ্টা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন।
আহতরা হলেন জামায়াত কর্মী মো. ফয়জুল্লাহ, মো. ইমন, মো. রাতুলসহ ১০ জন। বিএনপি কর্মী মো. আইয়ুব, শিমু আকতার, কহেনুর আক্তার, মো. শামীমসহ ১৫ জন।
আহত বিএনপি কর্মী মো. আইয়ুব অভিযোগ করেন, তিনি সকালে মাঠে কাজ করার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় জামায়াত কর্মীরা বাড়িতে ঢুকতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাড়িতে কোনো পুরুষ নাই, তাই নারীদের মধ্যে যাওয়ার দরকার নাই, আপনারা পুরুষ থাকলে আসবেন।’ এতে জামায়াত কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে বাড়িতে জোর করে ঢুকতে চান। বাধা দিলে তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করেন। পরে তিনি চিৎকার করলে পার্শ্ববর্তী বাড়ির বিএনপি কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় ধানের শীষ প্রতীকে মনোনীত প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও বিএনপি নেতা আলী আকবর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘উপজেলা জামায়াত ইসলাম নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে যাচ্ছে। ইচ্ছে করে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশ অশান্ত করতে চায়। আজ আমাদের ১৫ জনকে মেরে আহত করেছে, তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ, আমরা চাইব প্রশাসন জামায়াত ইসলামকে কঠোর হাতে দমন করুক, আমাদের কর্মীরা আর কত সহ্য করবে, আমরা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করছি।’
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মনোনীত প্রার্থী ফজলুল করিমের প্রধান নির্বাচন পরিচালক মাকছুদুর রহমান পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, টগবী ইউনিয়নে ওই চৌকিদার বাড়িতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী লিফলেট বিতরণ করার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপির কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাঁদের ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন, তাঁরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন, নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।