বরিশালের মুলাদীতে চাঁদা না দেওয়ায় ঠিকাদারকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে দুই সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে। আজ রোববার (১ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে মুলাদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্যানিটারি ঠিকাদার ইসরাফিল আকনকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছেন ঠিকাদার।
মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়িচালক মো. জহির উদ্দীন ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িচালক মো. শামিম হোসেনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠে। তবে গাড়িচালক মো. জহির উদ্দীন চাঁদা দাবি ও ঠিকাদারকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় ঠিকাদার ইসরাফিল আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মুলাদী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ঠিকাদার ইসরাফিল আকন জানান, তিনি মুলাদী সরকারি কর্মচারী আবাসিক ভবনে স্যানিটারি সংস্কারকাজ করছিলেন। আজ দুপুরে জহির উদ্দীন ও শামিম হোসেন তাঁর কাছে মিষ্টি খাওয়ার খরচের টাকা দাবি করেন। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাজ বন্ধ রাখতে বলেন।
বিকেল ৪টার দিকে একটি গ্রিল ঝালাইয়ের দোকানে নেওয়ার সময় জহির ও শামিম তাঁর পথরোধ করেন এবং টাকা না দেওয়ার কারণ জানতে চান। ইসরাফিল ছোট কাজের জন্য কোনো টাকা দিতে পারবেন না জানালে দুজন তাঁকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। মারধরে ঠিকাদারের সহযোগী সাব্বির হাসান আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে মুলাদী হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউএনওর গাড়িচালক মো. জহির উদ্দীন বলেন, ঠিকাদার কোয়ার্টারে কাজ করার সময় নারীদের সঙ্গে অশালীন ব্যবহার ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেছেন। তাই তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে চাঁদা ও মারধরের মিথ্যা অভিযোগ করে থাকতে পারেন।
মুলাদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মমিন হোসেন বলেন, দুই সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে মুলাদীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরাগ সাহা বলেন, ‘আমার গাড়িচালকের সঙ্গে ঠিকাদারের ঝামেলার বিষয়ে জানা নেই। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িচালকের সঙ্গে এক ঠিকাদারের ঝগড়া ও থানায় লিখিত অভিযোগের বিষয়ে শুনেছি। এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে এবং ঘটনার সঙ্গে গাড়িচালক শামিম হোসেনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ইউএনও মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, ‘আমি ছুটিতে রয়েছি। ঠিকাদারের কাছে সরকারি কর্মচারী কিংবা অন্য কারও চাঁদা দাবি করার সুযোগ নেই। বিষয়টি প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’