অপেক্ষমাণ ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সহযোগী অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন উপাচার্যের (ভিসি) কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেছেন। তিনি আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা থেকে অনশন শুরু করেন। জামাল উদ্দিন মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন।
এর আগে শিক্ষকদের বেঁধে দেওয়া (আলটিমেটাম) সময় রোববার শেষ হয়। আগামীকাল সোমবার থেকে তাঁরা আন্দোলন কর্মসূচিতে শুরু করবেন বলে জানা গেছে।
জামাল উদ্দিন বলেন, ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বছর ধরে শিক্ষকদের কোনো পদোন্নতি হচ্ছে না। অনেকেরই পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনের ছয় মাস পার হয়ে গেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেয়নি। আমি চাই, ববির শিক্ষক সংকট এবং অপেক্ষায় থাকা ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতির কার্যক্রম দ্রুত সময়ে সমাধান করা হোক।’
জানা গেছে, অনশনের খবর পেয়ে উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলম তাঁর কার্যালয়ের সামনে ছুটে যান এবং শিক্ষক জামাল উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেন। যদিও রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত শিক্ষক জামাল আমরণ অনশন অব্যাহত রাখেন।
এর আগে রোববার দুপুরে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকেরা বৈঠক করেন। বৈঠকে ক্লাস স্থগিত রাখা, উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা দেওয়ার মতো প্রস্তাব ওঠে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাদিকুর রহমান বলেন, ‘ছয় মাস ধরে আমাদের পদোন্নতি হচ্ছে না। এ নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে বহুবার বসেছি। কিন্তু কোনো সুরহা না হওয়ায় উপাচার্যকে রোববার পর্যন্ত আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। তাও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
সাদিকুর রহমান আরও বলেন, ‘দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আমরা নতুন কর্মসূচি দিতে যাচ্ছি। এ জন্য দুপুরে আমরা শিক্ষকেরা বৈঠকে বসেছিলাম। আগামীকাল সোমবার সকালে আবারও বৈঠক করে পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আব্দুল কাইউম বলেন, ‘আমাদের আর আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। কারণ ৬০ জন শিক্ষকের অধিকার ও সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’
এ বিষয়ে কথা বলতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলমের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তিনি বলেন, ‘ওই শিক্ষকের সামনেই আমি দাঁড়িয়ে আছি। তাঁর সঙ্গে কথা বলছি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’
প্রসঙ্গত, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ শিক্ষক পদোন্নতি পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। এর মধ্যে অধ্যাপক পদে ২৪, সহযোগী অধ্যাপক পদে ৩০ এবং সহকারী অধ্যাপক পদে ৬ জন পদোন্নতি চেয়ে আসছেন।