মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে থানায় হামলা
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুল্লশ্রী গ্রাম এখন অনেকটাই জনশূন্য হয়ে পড়েছে। আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশকে মারধরের ঘটনায় মামলার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রামের অধিকাংশ নারী-পুরুষ আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে গ্রামের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। কিছু কিছু পরিবারের নারীরা ঘরে অবস্থান করলেও তাঁরাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
আগৈলঝাড়া থানায় গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশকে মারধরের ঘটনায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, ফুল্লশ্রী গ্রামের একাধিক বাড়িতে দিনে দুই তিনবার হানা দিচ্ছে পুলিশ। এ ছাড়া এই মামলায় যাঁরা আসামি না, তাঁরাও পুলিশের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
তাঁরা জানান, স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। সব সময় আতঙ্কের মধ্যে বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। আমরা নিরপরাধ, পুলিশ যে কখন এসে আমাদেরও ধরে নিয়ে যায়।
আগৈলঝাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খাঁন বলেন, ‘থানায় হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিওচিত্র এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
ওসি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জন নারী ও ১০ জন পুরুষ রয়েছেন।’
প্রসঙ্গত, গত বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি, মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি ফুল্লশ্রী গ্রামের রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। থানা-পুলিশের একটি সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, হাজতখানায় থাকা অবস্থায় রিয়াজ নিজেই দেয়ালের সঙ্গে নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। রাত ১১টায় তাঁকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে তাঁকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তাঁর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার আগে কয়েক শ জনতা মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়।
এ সময় ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করলে সংঘর্ষে ছয় পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।