পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ প্রশাসনিক কাজ থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকেরা। ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
অপর দিকে শিক্ষকদের আন্দোলনকে উন্নয়নবিরোধী আখ্যা দিয়ে আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উপাচার্য (ভিসি) ড. তৌফিক আলম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সহযোগী অধ্যাপক ড. ধীমান কুমার রায় অভিযোগ করেন, ২০২৪ সাল থেকে অনেক শিক্ষক-কর্মকর্তা পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করলেও উপাচার্য আইনি বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে তা ঝুলিয়ে রেখেছেন। তিনি ইউজিসির চিঠির অপব্যাখ্যা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ন করছেন। ফলে ডিগ্রি প্রদানের বৈধতা নিয়েও এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ধীমান কুমার রায় বলেন, বর্তমানে ২৫টি বিভাগে শিক্ষক-সংকট এবং ৫১টি অনুমোদিত পদ খালি পড়ে থাকলেও নিয়োগপ্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। এই ‘প্রশাসনিক অদক্ষতা’ ও ‘অধিকার হরণের’ প্রতিবাদে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন আন্দোলনরত শিক্ষকেরা।
ড. ধীমান কুমার রায় আরও বলেন, ইউজিসি গত ৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যে চিঠি পাঠায়, তা থেকে বোঝা যায় উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলম ইউজিসির সঙ্গে এমন কিছু সমঝোতা করেছেন, যার ফলে ববি এখন থেকে আর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী নয়; বরং ইউজিসির নির্দেশনা ও উপাচার্যের মতামত অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মোহসীন উদ্দীন, সহযোগী অধ্যাপক ড. হাফিজ আশরাফুল হক, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ইসরাত জাহান, আইন বিভাগের ডিন সরদার কায়সার আহমেদ, মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দীন প্রমুখ।
এদিকে উপাচার্য ড. তৌফিক আলম এক ব্রিফিংয়ে শিক্ষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা শিক্ষকদের এমন কর্মকাণ্ডে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সংকট নিরসনের জন্য তাঁদের মন্ত্রণালয় বা ইউজিসিতে নিয়ে যেতে চেয়েছি, কিন্তু তারা রাজি হননি।’
উপাচার্য দাবি করেন, অনেক শিক্ষক চার বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই রেয়াত নিয়ে পদোন্নতির আবেদন করেছেন। শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আপনারা যদি ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখেন, তবে শৃঙ্খলা রক্ষায় আমার দিক থেকে যা যা করণীয়, আইন অনুযায়ী আমি তা-ই করব।’
উল্লেখ্য, ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে ২১ এপ্রিল থেকে ‘কমপ্লিট একাডেমিক শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন ববি শিক্ষকেরা। এতে সব বিভাগের পাঠদান, পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে গত রোববার থেকে শুধু পরীক্ষা গ্রহণে সম্মতি দেন শিক্ষকেরা। তবে পাঠদানসহ অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে।