বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে এক গৃহকর্মীর শরীরে গরম পানি ঢেলে দগ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে ফাইজা আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার রাতে মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার চরহোগলা এলাকার একটি বাসা থেকে ফাইজা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শনিবার তাঁকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ফাইজা উপজেলার চরহোগলা এলাকার প্রবাসী জহির তালুকদারের স্ত্রী।
লামিয়া (১৪) নামে ওই গৃহকর্মী মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। ভুক্তভোগী লামিয়া সাংবাদিকদের জানায়, প্রবাসীর বাড়িতে অনেক দিন ধরে সে কাজ করে। বিভিন্ন অজুহাতে তাকে মারধর করা হতো। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গৃহকর্ত্রী ফাইজা তার শরীরে গরম পানি ঢেলে দেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থান দগ্ধ হয়। শুক্রবার লামিয়া পালিয়ে গিয়ে তার মামা একই এলাকার সিরাজুল ইসলামের কাছে আশ্রয় নেয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
খবর পেয়ে মেহেন্দীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারেফ হোসেনের নেতৃত্বে গতকাল রাতেই পুলিশের একটি টিম চরহোগলা এলাকায় স্বর্ণা বেকারির পাশের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ফাইজা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে।
মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ইমরানুল হক বলেন, ওই কিশোরী এক বাসায় কাজ করত। তাকে নাকি অত্যাচার করা হতো সেখানে। গরম পানিতে কিশোরীর এক হাতে বেশি এবং অপর হাতে কিছুটা কম দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন রয়েছে।
এ ব্যাপারে মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে শনিবার জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।