বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে কালাবদর নদীতে গরু গোসল করাতে গিয়ে পাড় ভেঙে মাটিচাপাসহ নদীতে পড়েন এক কৃষক ও তাঁর ৫ বছর বয়সী ছেলে। তবে ওই কৃষক প্রাণে বেঁচে ফিরলেও তীব্র স্রোতে নদীতে তলিয়ে যায় শিশুটি।
আজ শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়েও শিশুটিকে উদ্ধার করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভাসানচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাগরজা এলাকায় কালাবদর নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
ওই কৃষকের নাম আজিজুল গাজী। তার নিখোঁজ ছেলের নাম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আজিজুল গাজী নিজের দুটি গরু গোসল করানোর জন্য কালাবদর নদীর তীরে নিয়ে যান। এ সময় তাঁর পাঁচ বছরের শিশুসন্তান আব্দুল্লাহ নদীর পাড়েই দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ তীব্র ভাঙনে আব্দুল্লাহর পায়ের নিচের মাটি ধসে পড়ে এবং সে মাটির নিচে চাপা পড়ে নদীতে তলিয়ে যেতে থাকে। চোখের সামনে সন্তানকে তলিয়ে যেতে দেখে আজিজুল গাজী তাকে উদ্ধার করতে যান। কিন্তু ওপর থেকে আরও মাটি ধসে পড়ায় তিনিও মাটিচাপা পড়েন।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় বাবা কোনো রকমে প্রাণে বেঁচে ফিরলেও চোখের পলকে নদীতে তলিয়ে যায় শিশু আব্দুল্লাহ।
স্বজনেরা জানান, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও শিশুর কোনো সন্ধান না পেয়ে বরিশাল ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ দিকে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবা-মায়ের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে ওই এলাকা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মেহেন্দীগঞ্জের কালীগঞ্জ নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এনামুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নদীভাঙনের শিকার হয়ে শিশুটি তলিয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাকে উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে নদীতে অতিরিক্ত স্রোত থাকায় অভিযান কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। নৌ পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার কাজের সার্বিক তদারকি করছে।’