দিন দিন জটিল হচ্ছে বরিশালের নির্বাচনী আসনগুলোর হিসাব-নিকাশ। জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর জেলার ৬টি আসনের ৩টিতেই প্রার্থী নিয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিএনপি, জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলন। এর মধ্যে একটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। অন্য দুটিতে দাঁড়িপাল্লা এবং হাতপাখার শক্ত অবস্থানে থাকায় ভোটের হিসাব নতুন করে কষতে হচ্ছে বিএনপিকে। এদিকে ৮ দলে সমঝোতা না হওয়ায় টানাপোড়েন চলছে জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে।
বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহানেরও মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। ফলে চ্যালেঞ্জে পড়ছে বিএনপি। এ সুযোগ কাজে লাগাতে চান জামায়াতের হাফেজ মাওলানা মো. কামরুল ইসলাম খান।
এ প্রসঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান বলেন, ‘নির্বাচন করার জন্যই তো মনোনয়ন জমা দিয়েছি, বৈধও হয়েছে। কেন প্রত্যাহার করব? লড়াই হবে আমার সঙ্গে স্বপনের। ১/১১-এর সংস্কারপন্থীদের দলীয় নেতা-কর্মীরাও ভোট দেবে না।’ এ বিষয়ে জহির উদ্দিন স্বপনের মোবাইলে কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে বিএনপির রাজিব আহসানের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। এখানে জামায়াতের জেলা আমির আবদুর জব্বার শক্ত প্রার্থী। এক বছর আগে তাঁকে দল মনোনয়ন দেওয়ায় মাঠ গুছিয়ে ফেলছেন বলে দাবি তাঁর। তা ছাড়া বিএনপির সাবেক এমপি মনোনয়ন- বঞ্চিত মেজবাহউদ্দিন ফরহাদ এখন রাজিবের পক্ষে না নামায় বেকায়দায় পড়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী।
হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জের দায়িত্বশীল দুই নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই আসনে বিএনপির বড় ব্যর্থতা দলের কোন্দল মিটিয়ে সাবেক এমপি মেজবাহউদ্দিন ফরহাদকে মাঠে নামাতে পারেনি। এ সুযোগটা কাজে লাগাতে চান দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী।
মর্যাদার আসন বরিশাল-৫ (সদর ও নগর)-এ ত্রিমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই আসনে জামায়াতের অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল এবং ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম দুই প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।
তবে মহানগর ইসলামী আন্দোলনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এবং মিডিয়া আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন নাইস বলেন, এই আসন চরমোনাই পীরের। জোটের অন্য কেউ এই আসন দাবি করতে পারেন না। জোট না থাকলেও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ফয়জুল করীম বিজয়ী হবেন।
এ ব্যাপারে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ারের অনুসারী ও বিএনপির নেতা আনোয়ারুল হক তারিন বলেন, ‘৮ দলীয় জোট নিয়ে তাঁদের মাথাব্যথা নেই। বরিশালবাসী এই আসনে বিগত সময়েও বিএনপিকে ভোট দিয়েছে, এবারও ভোট দেবে বলে আশা করছি।’