বরগুনায় একটি বসতঘরে আগুন লেগে আকাশ নামের তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অগ্নিদগ্ধ শিশুটির বাবা রাজিব হোসেন হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরগুনার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের বলইবুনিয়া গ্রামে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বামনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও বসতঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
বামনা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানাতে পারেননি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিহত শিশুটির দাদা কবির হোসেনের কাছে গাছ কাটার জন্য হাতের মেশিনসহ পেট্রল ও ডিজেলচালিত কয়েকটি মেশিন রয়েছে। মেশিনগুলো চালানোর জন্য তাঁদের ঘরে পেট্রল ও ডিজেল মজুত থাকত। ঘটনার সময় শিশুটির বাবা রাজিব ঘরে রাখা পেট্রল বোতলে ঢালতে গেলে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় শিশু আকাশ তার বাবার সঙ্গে ছিল।
আগুন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুটির বাবা দৌড়ে পার্শ্ববর্তী পুকুরে ঝাঁপ দিলেও শিশুটি ঘর থেকে বের হতে পারেনি। পরে স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করে। তাঁদের দুজনকে প্রথমে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই রাতেই শিশুটি মারা যায়। তার বাবাও বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জানান, শিশুটির শরীরের ৯৫ শতাংশ এবং তার বাবার ৩৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তাঁদের দুজনের অবস্থা খারাপ দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছিল।
এ ব্যাপারে স্থানীয় জসীম উদ্দিন রিমন বলেন, শিশুটিকে হারিয়ে পরিবারে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই করুণ মৃত্যুতে এলাকাবাসীও শোকাচ্ছন্ন।
বামনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ডিউটি অফিসার মো. আল আমীন বলেন, ‘আমাদের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দগ্ধ শিশু ও তার বাবাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কী কারণে আগুনের সূত্রপাত, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।’
বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, শিশুটিকে বরিশালে নেওয়ার পরে মারা যায়। সেখানেই শিশুটির সুরতহাল সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।