হোম > সারা দেশ > বান্দরবান

রুমায় কেএনএফের আস্তানা ঘেরাও যৌথ বাহিনীর, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে শতাধিক বম নারী-পুরুষকে

বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবান পার্বত্য জেলার রুমা উপজেলার দুর্গম লাইরুনটিপাড়া ও ইডেনপাড়ায় কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) সন্ত্রাসীদের আস্তানা ঘিরে রেখেছে যৌথ বাহিনী। যৌথ অভিযানে ক্ষতি এড়াতে স্থানীয় শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুকে সরিয়ে উপজেলা সদরে নিয়ে আসা হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযানের অগ্রগতি সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার রাত থেকে লাইরুনটি পাড়া ও ইডেনপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় অভিযানে নামে যৌথ বাহিনী। আজ বৃহস্পতিবার সকালে শতাধিক নারী ও শিশুকে নিরাপত্তার জন্য সরিয়ে এনে রুমার লুংঝিরিপাড়ায় অবস্থিত মারমা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ভবন ও বাংলা পাহাড়ে অবস্থিত খ্রিষ্টান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশ (সিএফবি) হোস্টেলে রাখা হয়েছে। তাঁদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। 

রুমার মারমা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শোয়ে প্র চিং বলেন, আজ সকাল থেকেই ওয়েলফেয়ার ভবনের সামনে বম সম্প্রদায়ের নারী ও শিশুদের জড়ো করেছে বলে জেনেছি, তবে সেখানে কোনো পুরুষ নেই। তিনি আরও বলেন, সম্ভবত নিরাপত্তার স্বার্থে এসব শিশু ও নারীকে আমাদের ওয়েলফেয়ার ভবনের সামনে জড়ো করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেএনএফের ভয়ভীতি ও যৌথ বাহিনীর অভিযানের কারণে জীবন বাঁচাতে ২০২৩ সালের ২৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মারমা সম্প্রদায়ের ৫১টি পরিবারের ১৪০ জন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মারমা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনে আশ্রয় গ্রহণ করে। আট দিন পর তাঁরা বাড়ি ফিরে যায়। একই বছরের ২০ এপ্রিল রুমার পাইন্দু ইউনিয়নের মুলপিপাড়া থেকে মোট ৪৯ পরিবারের ২৩৬ জন শিশু ও নারী-পুরুষ একই ভবনে আশ্রয় নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাড়ি ফিরে যায়। 

রুমার লুংঝিরিপাড়ার কারবারি শৈহ্লাউ মারমা বলেন, সকাল ৬টা বা ৭টা থেকে ওয়েলফেয়ার ভবনে শিশু ও নারী জড়ো হতে শুরু করেছিল, সেখানে বয়স্ক পুরুষ ১০ জনের মতো দেখা গেছে। 

গত ২ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে রুমা উপজেলায় সশস্ত্র হামলা, সরকারি কর্মকর্তা ও পথচারীদের জিম্মি করা এবং অর্থ লুটের উদ্দেশ্যে সোনালী ব্যাংকের শাখায় হামলা করে ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে অপহরণ, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের ১৪টি অস্ত্র লুট এবং গত ৩ এপ্রিল থানচি উপজেলায় স্থানীয়দের জিম্মি করে গুলি ও দুটি ব্যাংকের শাখায় লুট এবং রাতে ব্যাপক গোলাগুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে কেএনএফ। এরপর কেএনএফ দমনে যৌথ অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

বান্দরবানের রুমা ও থানচি উপজেলায় দুই দিনে তিন ব্যাংকে হামলা, টাকা ও অস্ত্র লুট এবং ব্যাংক ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে অপহরণের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ ও ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিভিন্ন ধারায় আটটি মামলা হয়েছে। কেএনএফের সহযোগী লাল লিয়ান সিয়াম বম ও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক চেওসিম বমসহ ১৯ জন নারী ও ৩৬ জন পুরুষসহ মোট ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

সন্ত্রাসীদের আস্তানা ঘিরে রাখা ও স্থানীয়দের সরিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাজাহান মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি, আপনাদের পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’

নাইক্ষ্যংছড়ি সদর হাসপাতালে ককটেল নিক্ষেপ, নিরাপত্তা জোরদার

নিজ রিসোর্টে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, কারাগারে এনসিপি নেতা

রিসোর্টে নিয়ে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে, গ্রেপ্তারের পর সাময়িক অব্যাহতি

রিসোর্টে মারমা তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার

থানচি-তিন্দু সংযোগ সড়কে পর্যটকবাহী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির অভিযানে মিলল ১ লাখ বার্মিজ ইয়াবা

বান্দরবানে নিখোঁজ ৩ স্কুলছাত্রী খুলশী থেকে উদ্ধার

কাল থেকে বান্দরবান-থানচি সড়কে বাস চলাচল শুরু

যেখানে স্বাস্থ্যসেবা ‘এখনো দুর্গম পথের ওপারে’

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিদ্রোহী ও অনুপ্রবেশকারী ঠেকাতে বিজিবির ড্রোন-থার্মাল ইমেজার