হোম > সারা দেশ > বাগেরহাট

চিতলমারীতে বিদ্যালয়ে কুকুরের উৎপাত, আতঙ্কে ৩৫০ শিশুশিক্ষার্থী

চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বিদ্যালয়ের মাঠে বসে আছে বেওয়ারিশ কুকুরগুলো। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাগেরহাটের চিতলমারীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে প্রতিদিন সকালে জড়ো হয় অর্ধশতাধিক বেওয়ারিশ কুকুর। বিদ্যালয়ে আসা শিশুদের দেখলেই তেড়ে আসে কুকুরগুলো। ভয়ে ছোটাছুটি করে শিক্ষার্থীরা। ইতিমধ্যে কুকুরের কামড়ে একটি শিশু আহত হয়েছে। সীমানাপ্রাচীর না থাকায় এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কে রয়েছে বিদ্যালয়ের ৩৫০ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার এ কে ফায়জুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে বিদ্যালয়ে এখনো সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়নি। বিদ্যালয়টিতে প্রতিদিন ৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী, ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ও অসংখ্য অভিভাবকের যাতায়াত রয়েছে। সীমানাপ্রাচীর না থাকায় সদর বাজারের বেওয়ারিশ কুকুরগুলো বিদ্যালয়ের মাঠে ঢুকে উপদ্রব করে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, সকালে রাস্তায় লোকজন কম থাকে। এ সময় তাদের দেখলে কুকুরগুলো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। তাই বিদ্যালয়ে আসতে তারা ভয়ে থাকে।

কুকুরের কামড়ে আহত শিক্ষার্থী আহাদ শেখের মা জান্নাতি আক্তার জানান, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে কয়েকটি কুকুর তাঁর ছেলেকে আক্রমণ করে। এতে আহাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের জখম হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।

আরেক অভিভাবক জোসনা বেগম বলেন, সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। এ কারণে সংসারের কাজ ফেলে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলে আসতে হয়। তবে এভাবে কতদিন চলবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

আড়ুয়াবর্ণি গ্রামের বাসিন্দা মোহন খান জানান, তাঁর চোখের সামনেই বিদ্যালয়ের মাঠে একটি মেয়েকে একদল কুকুর তাড়া করে। ভয়ে পালাতে গিয়ে মেয়েটি রাস্তার পাশে পড়ে যায়। পরে কুকুরগুলো তার ওপর আক্রমণ চালালে আশপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মানছুরা আক্তার বলেন, ‘উপজেলায় আমাদের বিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কিন্তু সীমানাপ্রাচীর না থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।’

প্রধান শিক্ষক মহিতুল ইসলাম বলেন, ‘কুকুরের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকেরা শিশুদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। অনেকেই সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে আসছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

চিতলমারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আহমেদ ইকবাল বলেন, বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বাড়লেও খাবারের পর্যাপ্ত জোগান নেই। আগে বিভিন্ন জায়গায় খাবার পেলেও এখন তা কমে গেছে। এ কারণেও কুকুরের আক্রমণ বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে থাকতে পারত।

বাগেরহাটে বাংলালিংকের বিক্রয় প্রতিনিধিকে কুপিয়ে টাকা-সিম ছিনতাই

বাগেরহাটে শোয়ার ঘর থেকে স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মোরেলগঞ্জে নিখোঁজের এক দিন পর খালে কিশোরের ভাসমান মরদেহ

সুন্দরবনে দস্যু-কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধ, উদ্ধার ৫ জেলে

লোকালয়ে আবারও বাঘের আনাগোনা, আতঙ্কে ৫ গ্রামের মানুষ

মোংলায় পশুর চ্যানেলে তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় কয়লাবোঝাই জাহাজডুবি

সুন্দরবনে তেলবাহী জাহাজের ধাক্কায় ১,২৫০ টন কয়লাবোঝাই কার্গোডুবি

বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিং বন্ধের দাবি জেলে ও ব্যবসায়ীদের

মাদকসংশ্লিষ্টতায় দুই মাসে ২৭ পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠানো হয়েছে: আইজিপি

সুন্দরবনে সাপের ছোবলে আহত, সাপ ধরে হাসপাতালে গেলেন জেলে