ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে এবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের শুনানির জন্য দিলীপ আগরওয়ালাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। গত ২৬ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক মো. মাসুদুর রহমান তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
গত ২৮ অক্টোবর এই আবেদনের ওপর শুনানি হয়। ওই দিন আসামিপক্ষের আইনজীবী জাকারিয়া হায়দার গ্রেপ্তার না দেখানোর আবেদন করেন। তিনি আদালতকে জানান, মামলার ঘটনার দিন দিলীপ আগরওয়ালা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পরে আদালত অধিকতর শুনানির জন্য ৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। শুনানি শেষে আজ তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। পরে তাঁকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালতে নেওয়া হয়। সেখানে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলাটি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে করে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৮ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণি সড়কে মহাখালী বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন ইউটার্নে পাকা রাস্তার ওপর নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন সদস্য অবৈধ মিছিল করেন। মিছিলে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিসহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। মিছিলকারীরা স্বাধীন রাষ্ট্রের সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার কাজে সম্পৃক্ত থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে যড়যন্ত্র এবং প্ররোচিত করে প্রজাতন্ত্রের ক্ষতি সাধন করার উদ্দেশ্যে নেতা-কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করেন। এসব সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অপরাধ।
গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মদদ দিচ্ছেন। তিনি এই মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত মর্মে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। উক্ত আসামি উপরোক্ত ঘটনার অর্থদাতা-মদদদাতা হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ ও সব প্রকার সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। এ জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনার সঙ্গে অন্য যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিতকরণের জন্য আগরওয়ালাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় বনানী থেকে আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরদিন সোনা চোরাচালান ও অর্থ পাচারের অভিযোগে সিআইডির করা এক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে উত্তরা পশ্চিম থানায় করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে দুই দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর কারাগারে পাঠানো হয়। এরই মধ্যে তাঁকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। এরপর বিভিন্ন হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।