জরাজীর্ণ একটি টিনের চালা। মাটিতে বসে আছেন এক যুবক। তাঁর হাত-পায়ে লোহার শিকল। এলোমেলো চুল-দাড়ি, পাশে কিছু প্লাস্টিকের বোতল আর পলিথিনে রাখা মুড়ি। এ দৃশ্য কোনো বন্দিশালার নয়, রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের একসময়ের মেধাবী ছাত্র হাসান সরকারের। যার স্বপ্ন থেমে গেছে দারিদ্র্যের কারণে।
জানা গেছে, একসময় ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন হাসান। ছোটবেলা থেকে পড়াশোনায় ছিলেন তুখোড়। ২০০২ সালে তারাগঞ্জ ও/এ মডেল উচ্চবিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাস করেন। হাসানের বাবা মোবারক হোসেনের কোনো জমিজমা ছিল না। একটি ছোট ভাতের হোটেল চালিয়ে কষ্টে সংসার চলত। দুই ভাই ও দুই বোনের পরিবারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী।
কিন্তু এসএসসি পাসের পর হঠাৎ করে তাঁর মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না পেলেও ধীরে ধীরে অবস্থার অবনতি ঘটে। বাবা-মা ছেলেকে সুস্থ করতে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করান। ধারদেনা করে, যা ছিল সব বিক্রি করে চিকিৎসার খরচ জোগান। একসময় নিঃস্ব হয়ে পড়েন তাঁরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন বলেন, ‘পরিবারটির খোঁজ নিয়েছি। হাসানের ঘর করার জন্য টিন ও টাকা দেওয়া হবে। তাঁর সুচিকিৎসা করার জন্য পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’