হোম > বিশ্লেষণ

ইসরায়েলি লবি: ট্রুম্যান থেকে ট্রাম্প, ওয়াশিংটনকে নাকে দড়ি দিয়ে যেভাবে ঘোরায় তেল আবিব

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

বারবার ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টরা। ছবি: সংগৃহীত

১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে যখন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলছিল, তখন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মুখোমুখি হয়েছিলেন। একদিকে ছিলেন তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও জায়নবাদী লবিস্টরা, যারা যেকোনো মূল্যে ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে সমর্থন আদায়ে চাপ দিচ্ছিলেন। অন্যদিকে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ সি মার্শালসহ মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির শীর্ষ কর্মকর্তারা, যাদের সর্বসম্মত সুপারিশ ছিল একটি পৃথক ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করা।

পররাষ্ট্র দপ্তরের সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা এক বাক্যে সতর্ক করেছিলেন, ফিলিস্তিনে মার্কিন সমর্থনে ইহুদি রাষ্ট্র তৈরি হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্ম দেবে, সোভিয়েত ইউনিয়নকে আরবদের ক্ষোভ ব্যবহারের সুযোগ দেবে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঝুঁকিতে ফেলবে এবং তা পুরো আরব ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের স্থায়ী ক্ষতি সাধন করবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল জর্জ মার্শাল, যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন বিজয়ের মূল কারিগর এবং ইউরোপ পুনর্গঠনে ‘মার্শাল প্ল্যান’-এর রূপকার হিসেবে সর্বজনশ্রদ্ধেয় ছিলেন, তিনি সরাসরি ট্রুম্যানকে সতর্ক করেছিলেন। ১৯৪৮ সালের ১২ মে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মার্শাল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেবল কয়েকটি রাজনৈতিক ভোট পাওয়ার আশায় এমন সিদ্ধান্ত নিলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে। তিনি এমনকি এও বলেন, ট্রুম্যান যদি এই রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেন, তবে পরবর্তী নির্বাচনে তিনি নিজে ট্রুম্যানকে ভোট দেবেন না।

কিন্তু নিউইয়র্কের প্রভাবশালী ভোটারদের অসন্তুষ্ট করে নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে ট্রুম্যান সেই বৈঠকের মাত্র দুই দিনের মাথায় নিজের শীর্ষ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতামত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ইসরায়েলকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেন।

ঐতিহাসিক বিশ্লেষকদের মতে, হ্যারি ট্রুম্যানের সেই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে যে ধারার সূচনা হয়েছিল, তা গত সাত দশকে আরও জাঁকিয়ে বসেছে। এলিয়ট ক্লিফটন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ইয়ান লাস্টিকের যৌথ গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘ইসরায়েলস লবি: আমেরিকা ইন দ্য গ্রিপ অব অ্যা ফরেন পাওয়ার’ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—ট্রুম্যান থেকে শুরু করে জেরাল্ড ফোর্ড, জিমি কার্টার, জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা, জো বাইডেন কিংবা ডোনাল্ড ট্রাম্প—প্রতিটি মার্কিন প্রশাসনই নিজ দেশের জাতীয় স্বার্থের চেয়ে এই বৈদেশিক লবির রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।

যেভাবে কাজ করে ওয়াশিংটনের ‘ইসরায়েল লবি’

যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলি লবি কোনো একক সংগঠন নয়; বরং এটি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এক সুবিশাল ও সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক। এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘আমেরিকান-ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি’ (আইপ্যাক বা AIPAC) এবং ‘কনফারেন্স অব প্রেসিডেন্টস অব মেজর আমেরিকান জুয়িশ অর্গানাইজেশনস’।

গবেষকদের মতে, এই লবি গোষ্ঠীগুলোর মূল কৌশল হলো:

ভোটারদের উদাসীনতার সুযোগ নেওয়া: সাধারণ আমেরিকানদের একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে উদাসীন হওয়ায় লবি গোষ্ঠীগুলো ক্যাপিটল হিল ও হোয়াইট হাউসে নিজেদের একক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়।

নির্বাচনী অর্থায়ন ও শাস্তি: যেসব রাজনীতিবিদ ইসরায়েলি সরকারের এজেন্ডা সমর্থন করেন, তাঁদের নির্বাচনী তহবিলে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢালা হয়। বিপরীতভাবে, যারা ফিলিস্তিনিদের অধিকার বা নিরপেক্ষ মধ্যপ্রাচ্য নীতির কথা বলেন, তাঁদের পরাজিত করতে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পেছনে বিশাল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়।

ইতিহাসের সাত দশক: প্রেসিডেন্টদের রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টদের জাতীয় স্বার্থরক্ষার বিভিন্ন উদ্যোগ কীভাবে ইসরায়েলি লবির দরুন ব্যর্থ হয়েছে, তার একাধিক ঐতিহাসিক দলিল উঠে এসেছে এই বিশ্লেষণে:

১. জেরাল্ড ফোর্ড ও ১৯৭৫ সালের পুনর্মূল্যায়ন উদ্যোগ

মিশর ও ইসরায়েলের সংঘাত নিরসনে ব্যর্থ হয়ে প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার মধ্যপ্রাচ্য নীতি পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেন। কিসিঞ্জারের গঠিত ‘ওয়াইজ মেন’ বা প্রবীণ বিশেষজ্ঞদের সর্বসম্মত পরামর্শ ছিল—স্থায়ী শান্তির জন্য পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে ইসরায়েলকে পিছু হটতে বাধ্য করা।

কিন্তু এই পরিকল্পনার খবর চাউর হতেই আইপ্যাক-এর তৎপরতায় মার্কিন সিনেটের ৭৬ জন সিনেটর প্রেসিডেন্ট ফোর্ডকে একটি যৌথ চিঠি পাঠান। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ইসরায়েলের পাশে থাকতে হবে। নিজের পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা ভেস্তে যাওয়ার ভয়ে ফোর্ড পিছিয়ে আসতে বাধ্য হন। শেষপর্যন্ত ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল একটি গোপন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে, যেখানে ইসরায়েলকে অভূতপূর্ব সামরিক ও কূটনৈতিক গ্যারান্টি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আত্মজীবনীতে ফোর্ড আক্ষেপ করে লেখেন, লবির এই অনমনীয় চাপ তাঁর সম্পূর্ণ কূটনৈতিক পরিকল্পনা পণ্ড করে দিয়েছিল।

২. জিমি কার্টার ও ‘ফিলিস্তিন স্বভূমি’ ব্ল্যাকমেল (১৯৭৭)

প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি স্বাধীন ‘স্বভূমি’ প্রতিষ্ঠার উন্মুক্ত দাবি জানান। একই সঙ্গে মার্কিন-সোভিয়েত যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে সমন্বিত শান্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এর পরপরই ইসরায়েলি সরকার ও লবি গোষ্ঠীগুলো কার্টারের বিরুদ্ধে একযোগে মাঠে নামে। ১৯৭৭ সালের অক্টোবরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোশে দায়ান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জবিগনিউ ব্রজেজিন্সকির উপস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট কার্টারকে কার্যত ব্ল্যাকমেল করেন। দায়ান হুমকি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলকে পূর্ণ সামরিক সহায়তা না দেয় এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি স্বভূমির বিরোধিতা না করে, তবে তিনি সরাসরি ‘আমেরিকান ইহুদিদের দ্বারস্থ হবেন’।

রাজনৈতিক বিপর্যয়ের ভয়ে কার্টার তাঁর অবস্থান থেকে পিছু হটেন। এর ফলে কেবল মিশর-ইসরায়েল একটি পৃথক চুক্তি (ক্যাম্প ডেভিড) স্বাক্ষর হয়, যার মাধ্যমে মিশর আরব বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, ফিলিস্তিন সংকট অমীমাংসিত থাকে এবং পরবর্তীকালে ১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরায়েলি আক্রমণের পথ সুগম হয়।

৩. জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ক্যাপিটল হিলের এক হাজার লবিস্ট (১৯৯১)

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি নির্মাণ বন্ধ করতে প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ইসরায়েলের ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ গ্যারান্টি স্থগিত করেন। সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন আইনসভায় লবিস্টদের ঝড় ওঠে।

এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বুশ বলেছিলেন, ‘ক্যাপিটল হিলে অত্যন্ত শক্তিশালী ও কার্যকর এক হাজার লবিস্ট আমার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কাজ করছে, আর আমি এখানে হোয়াইট হাউসে একা এক নিঃসঙ্গ লোক হিসেবে লড়াই করছি।’

৪. বারাক ওবামা, ডেনিস রস ও জাতিসংঘের পিছুটান (২০০৯–২০১২)

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক্ষমতায় এসে ফিলিস্তিন বসতি স্থাপন পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি জানান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন লবি গোষ্ঠীগুলোর তীব্র বাধার মুখে ওবামা দ্রুত নিজের নীতি পরিবর্তন করতে বাধ্য হন।

তিনি মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক স্বাধীন দূত জর্জ মিচেলকে সরিয়ে লবি ঘনিষ্ঠ ডেনিস রসকে দায়িত্ব দেন। এমনকি বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব আনা থেকে বিরত রাখতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে (মাহমুদ আব্বাস) দেওয়া ৪৫ কোটি ডলারের মার্কিন সহায়তা বন্ধের হুমকি দেয় ওবামা প্রশাসন। দ্বিতীয় মেয়াদে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ওবামার বক্তব্যে আগের নীতি থেকে পুরোপুরি সরে এসে কেবল ইসরায়েলিদের নিরাপত্তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করা হয়।

নিজের স্মৃতিকথা ‘অ্যা প্রমিসড ল্যান্ড’-এ ওবামা লিখেছেন, কীভাবে আইপ্যাক মার্কিন নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ তকমা দেওয়ার ভয় দেখায়। তিনি উল্লেখ করেন, ‘লুইস ফারাকানের একই এলাকায় বসবাসকারী একজন কৃষ্ণাঙ্গ এবং মুসলিম নামযুক্ত ব্যক্তি’ হওয়ায় তিনি এই ধরনের রাজনৈতিক আক্রমণের ক্ষেত্রে কতটা নাজুক ছিলেন।

জো বাইডেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাম্প্রতিক গাজা যুদ্ধ

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু হলে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গাজায় বেসামরিক হত্যা নিয়ে সামান্য অসন্তোষ প্রকাশ করলেও, নিজের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের পরামর্শ উপেক্ষা করে ইসরায়েলে অস্ত্রের অবিরত সরবরাহ বজায় রাখেন। বাইডেন লবির বহুল প্রচলিত সেই নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন যে—ওয়াশিংটন ও জেরুজালেমের মধ্যে কোনো বিভেদ দেখা গেলে তা আরবদের উৎসাহিত করবে।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদে পেন্টাগন ও পররাষ্ট্র দপ্তরের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের মতামত উপেক্ষা করে এবং রিপাবলিকান দলের ৪৫ শতাংশ সমর্থকের নেতিবাচক মতামত সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে চরমপন্থী ইসরায়েলঘেঁষা নীতি গ্রহণ করা হয়। ট্রাম্প তার ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ এড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, ইসরায়েলি লবির বিশাল অর্থায়ন মার্কিন নীতিকে আবারও তাঁদের দিকে টেনে আনছে।

জর্জ ওয়াশিংটনের ঐতিহাসিক সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন ১৭৯৬ সালে তাঁর বিদায়ী ভাষণে মার্কিন শাসনব্যবস্থা নিয়ে এক কালজয়ী সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি মার্কিন রাজনীতি বা গোষ্ঠীগুলোর যদি “অন্ধ অনুরাগ বা প্রবল আবেগীয় ব্যাকুলতা” জন্মায়, তবে জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে। কারণ এমন একপক্ষীয় জাতীয় অনুরাগের বিপরীতে অভ্যন্তরীণভাবে সমপরিমাণ কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক বিরোধিতা গড়ে ওঠে না। ফলে এটি যুক্তরাষ্ট্রকে বিপজ্জনক বিদেশি সংঘাত ও যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলবে, যা দেশের নিজস্ব স্বার্থের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।’

বর্তমান মার্কিন রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া

গাজা ও লেবাননে সাম্প্রতিক ধ্বংসযজ্ঞ ও বেসামরিক গণহত্যার পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে লক্ষণীয় পরিবর্তন আসছে।

বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ আমেরিকান নাগরিক বর্তমানে ইসরায়েলের সামরিক নীতির বিরোধিতা করছেন।

২০২৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রাপ্ত ভোটে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ২০২০ সালে বাইডেনকে ভোট দেওয়া যে নাগরিকেরা ২০২৪ সালে কমলা হ্যারিসকে ভোট দেননি, তাঁদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই জানিয়েছেন—গাজায় ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধ করতে না পারাই তাঁদের এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ ছিল।

এর স্পষ্ট প্রভাব এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। মার্কিন প্রাইমারিগুলোতে এখন রেকর্ড সংখ্যক ইসরায়েল-সমালোচক প্রার্থী জয়লাভ করছেন।

তবে জনমতে এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন সত্ত্বেও, ক্যাপিটল হিল ও হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলি লবির অর্থায়ন ও রাজনৈতিক কৌশল মার্কিন নীতি নির্ধারণে মূল বাধা হিসেবে রয় গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অ্যান্টিসেমিটিজমের অভিযোগের ভয় কাটিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিকে আন্তর্জাতিক আইন ও নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালনা করতে না পারলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি আরও দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়বে।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

‘গুপ্তচরের স্বর্গরাজ্য’ জাপান বানাল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, ৮০ বছর পর কেন এই পরিবর্তন

ক্রিপ্টো, জুয়া আর নিষেধাজ্ঞার গোলকধাঁধায় ইরানের পকেটে ৪ বিলিয়ন ডলার

জর্ডান পিটারসনের নিবন্ধ: ‘জলবায়ু পরিবর্তন বিপর্যয়বাদ’ পুঁজিবাদকে ধ্বংস করার একটি বামপন্থী হাতিয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সীমিত সংঘাত বজায় রাখা কেন ইরানের জন্য লাভজনক

এবারই প্রথম—হামলায় বিরতি দিল যুক্তরাষ্ট্র, আর শুরু করল ইরান

ইরানকে শান্ত করতে পারবে কি চীন

মার্কিন হামলা সাময়িক বন্ধের পরও ইরান কেন নিজেই যুদ্ধ বাড়াচ্ছে

ইরান যুদ্ধে রাশিয়ার সহায়তার বিষয়ে এখনো নীরব ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী আমিরাত, আলোচনায় বিপুল বিনিয়োগ

আলোচনায় ইরানি টাকায়, ইসরায়েলি প্রযুক্তিতে বানানো গোপন পাইপলাইন