ইসরায়েলের রাজনীতিতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিকল্প হিসেবে গাদি আইজেনকটের সম্ভাব্য উত্থান ফিলিস্তিনিদের সামনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটলে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে, এমনকি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—আইজেনকট প্রধানমন্ত্রী হলে ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় নীতিতে আদৌ কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসবে, নাকি কেবল আগ্রাসনের ধরন ও ভাষা বদলাবে?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্যের পাশাপাশি ইসরায়েলের বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ, ইসরায়েলের বর্তমান সংকট কেবল নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের সংকট নয়; এর শিকড় দেশটির রাষ্ট্রীয় পরিচয়, রাজনৈতিক আদর্শ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থানের মধ্যে প্রোথিত।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন শিবির ৫৩টি আসন পেয়েছে, যা বর্তমান সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে ১৫টি কম। অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন শিবির পেয়েছে ৪৮টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে নেই। তবে ইউনাইটেড আরব লিস্টের সমর্থন, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের অবস্থান পরিবর্তন এবং জয়েন্ট লিস্টের সমর্থন ও নিরাপত্তাবলয়ের মাধ্যমে আইজেনকটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নতুন নেসেটের ১২০ সদস্যের মধ্যে প্রায় ৯০ জন ডানপন্থী অথবা উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করেন। অর্থাৎ, নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারালেও ইসরায়েলের রাজনৈতিক কাঠামোর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ডানপন্থী অবস্থানেই থাকবে। ফলে কোনো নতুন সরকার ফিলিস্তিন প্রশ্নে মৌলিক ছাড় দিতে চাইলে সংসদীয় ও রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়বে।
আইজেনকটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই সরকারের রাজনৈতিক চরিত্র। কারণ, তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারকে টিকে থাকতে হলে আরব দলগুলোর সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। ফলে বর্তমান সরকারের তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানোর রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে।
কিন্তু সেই নমনীয়তাকে ফিলিস্তিন প্রশ্নে নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। কারণ নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের মধ্যে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে মৌলিক কোনো মতপার্থক্য নেই। উভয় পক্ষই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধী এবং জায়নবাদী রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মূল লক্ষ্যগুলোর প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পার্থক্য মূলত অগ্রাধিকার, কৌশল এবং লক্ষ্য অর্জনের পদ্ধতিতে।
নেতানিয়াহু সরকারের রাজনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে সামরিক শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, আগাম ও প্রতিরোধমূলক হামলা, ভূখণ্ড দখল, নিরাপত্তা অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ। তাঁর সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিতে সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পর আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ অনেকটা অনিবার্য পরিণতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
অন্যদিকে, আইজেনকটের সম্ভাব্য সরকারের কৌশল কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে তারা কঠোর অবস্থান নেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ালে তার সঙ্গে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও থাকবে। তবে তাদের প্রধান লক্ষ্য তেহরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো নয়, বরং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি গুঁড়িয়ে দেওয়া।
একই সঙ্গে তারা আঞ্চলিক দেশগুলোর অংশগ্রহণে একটি নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী হবে, যার প্রধান উদ্দেশ্য ইরানকে মোকাবিলা করা। সৌদি আরবসহ আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণকেও তারা গুরুত্ব দেবে। অর্থাৎ, নেতানিয়াহুর মতো সামরিক শক্তিকে সামনে রেখে স্বাভাবিকীকরণের পথে এগোনোর পরিবর্তে আইজেনকটের শিবির কূটনীতি, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা কাঠামোকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারে।
কিন্তু এই কৌশলগত পার্থক্যের অর্থ ফিলিস্তিনিদের জাতীয় অধিকার স্বীকার করে নেওয়া নয়। বরং বৃহত্তর জায়নবাদী লক্ষ্যগুলো অর্জনের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম সংঘাতপূর্ণ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি অনুসরণের সম্ভাবনাই এখানে বেশি।
আইজেনকটের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায় না। তিনি নিজেই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন। ফলে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হলেও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো তাৎক্ষণিক অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন আগাবেকিয়ান অবশ্য জানিয়েছেন, আইজেনকট সরকার গঠন করলে তাঁর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত পিএ। তবে এর শর্ত হলো, তাঁকে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করতে হবে।
সৌদি টেলিভিশন চ্যানেল আল হাদাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আগাবেকিয়ান বলেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকারসম্পন্ন জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করেন, এমন যেকোনো পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। তাঁর মতে, আঞ্চলিক শান্তি, সংঘাতের ভবিষ্যৎ এবং দখলদারত্ব নিয়ে আলোচনার জন্য এমন অংশীদারিত্ব অপরিহার্য।
তবে আইজেনকটের ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতার জবাবে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃত ফিলিস্তিনি অধিকারের ওপর নির্ভরশীল। আগাবেকিয়ানের বক্তব্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। তিনি বলেছেন, পশ্চিম তীর ও গাজায় বসবাসকারী প্রায় ৫০ লাখ ফিলিস্তিনি দেশত্যাগ করবে না, তাদের বহিষ্কার করা যাবে না এবং তারা কোথাও চলে যাবে না। ইসরায়েলকে এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে হবে।
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ মূলত বোঝাতে চেয়েছে, ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্বকে উপেক্ষা করে কিংবা তাদের জোরপূর্বক সরিয়ে দিয়ে কোনো রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব নয়। তবে আইজেনকটের অবস্থান এবং ইসরায়েলের সংসদীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিলে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে অগ্রগতি এখনো অনিশ্চিত।
আইজেনকটের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সেটি ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা কিংবা জাতীয় অধিকার প্রতিষ্ঠার পরিবর্তন হবে না; বরং ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
গাজা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে আইজেনকটের সরকার বর্তমান সরকারের তুলনায় কিছুটা বেশি নমনীয় হতে পারে। তবে গাজায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নে তাদের অবস্থান কঠোরই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ তাদের অগ্রাধিকার হবে হামাসকে নির্মূল করা এবং ইসরায়েলের শর্ত মেনে চলবে, এমন একটি ‘নবায়িত’ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা।
অর্থাৎ, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে গাজায় ফিরতে দেওয়া হলেও সেটি স্বাধীন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম কোনো কর্তৃপক্ষ হবে না; বরং ইসরায়েলের নির্ধারিত সীমার মধ্যে পরিচালিত একটি প্রশাসনিক কাঠামো হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
পশ্চিম তীরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নীতি অনুসরণের সম্ভাবনা রয়েছে। আইজেনকটের সরকার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চাইতে পারে। বর্তমানে ইসরায়েলের পদক্ষেপে কর্তৃপক্ষটি প্রায় পতনের মুখে পৌঁছেছে। নতুন সরকার আটকে রাখা ফিলিস্তিনি রাজস্বের অর্থের পুরোটা অথবা একটি অংশ ছাড় করতে পারে। ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের ইসরায়েলে কাজ করার সুযোগ দিতে পারে এবং পশ্চিম তীরের ‘এ’ ও ‘বি’ শ্রেণিভুক্ত এলাকায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের স্বশাসন বজায় রাখতে দিতে পারে। এমনকি ‘সি’ এলাকার কিছু অংশেও সীমিত প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কিন্তু এর বিনিময়ে পশ্চিম তীরের ‘সি’ শ্রেণিভুক্ত পুরো এলাকা অথবা এর অধিকাংশ সংযুক্ত করার পরিকল্পনা অব্যাহত থাকতে পারে। উল্লেখ্য, এই এলাকাগুলো পশ্চিম তীরের মোট ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশেরও বেশি।
এখানে ইসরায়েলের কৌশলগত চিন্তার একটি মৌলিক দিক কাজ করছে। আইজেনকটসহ তাঁর সম্ভাব্য সরকারের কিছু অংশ মনে করে, ফিলিস্তিনি জনসংখ্যাকে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে রাখতে হবে। কারণ ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ড সংযুক্ত করে তাদের নাগরিকত্ব দিলে ইসরায়েলের ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও রাষ্ট্রীয় পরিচয় হুমকির মুখে পড়তে পারে। আবার তাদের নাগরিকত্ব না দিয়ে পুরো ভূখণ্ড সংযুক্ত করলে পূর্ণাঙ্গ অ্যাপার্থাইড বা বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার অভিযোগ আরও জোরালো হবে। সুতরাং, ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা কিন্তু জনসংখ্যাকে সেই নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার থেকে বাইরে রাখা, এই দ্বৈত কৌশলই ইসরায়েলের সম্ভাব্য নীতির কেন্দ্রে থাকতে পারে।
ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান বিশ্লেষণ করতে গেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে আসে: দেশটির রাজনীতির ডান অভিমুখী যাত্রার প্রবণতা নেতানিয়াহুর উত্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিসরের কেন্দ্র আরও ডানপন্থী হয়েছে। বর্জনমূলক জাতীয়তাবাদ এবং ইহুদি আধিপত্যবাদী মতাদর্শের প্রবক্তারা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলো দখল করেছেন। ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি ইসরায়েলের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ইহুদি নাগরিকের মধ্যে বিস্তৃত সমর্থন পেয়েছে।
তাই নেতানিয়াহুকে ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার একমাত্র নির্মাতা হিসেবে দেখার পরিবর্তে সেই বাস্তবতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা অধিক যথাযথ।
সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ অনাবাসিক ফেলো সিনা তুসি বলেন, ‘ইসরায়েলের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশের মধ্যে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা এবং আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরতার বিষয়ে যথেষ্ট ধারাবাহিকতা রয়েছে। ফলে নেতৃত্বের পরিবর্তনে বক্তব্যের ধরন বদলাতে পারে, কিন্তু নীতির মূল বিষয়বস্তু অপরিবর্তিত থাকতে পারে।’
লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মারিনা কালকুলিও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইসরায়েলের ইহুদি নাগরিকদের মধ্যে নেতানিয়াহু সরকারের গাজা যুদ্ধের প্রতি ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে একটি অভিন্ন ধারণা কাজ করছে যে, গাজায় ইসরায়েলের এই পথেই এগিয়ে যাওয়া উচিত।
কালকুলির ভাষায়, গণহত্যার বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিসরে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না; বরং পশ্চিমা সমর্থন হারানো ছাড়াই কীভাবে এই নীতি অব্যাহত রাখা এবং গণহত্যামূলক স্থিতাবস্থাকে স্বাভাবিক করা যায়, সেটিই হয়ে উঠেছে আলোচনার বিষয়।
তিউনিসিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত গর্ডন গ্রের মূল্যায়নও একই বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করে। তাঁর মতে, আইজেনকট রাজনীতিতে তুলনামূলকভাবে নতুন এবং নিজের অবস্থান সম্পর্কে খুব বেশি কিছু প্রকাশ করেননি। তবে তিনি প্রধানমন্ত্রী হলেও গাজা, পশ্চিম তীর কিংবা বৃহত্তর ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইসরায়েলের দৃষ্টিভঙ্গিতে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটবে, এমনটা অনুমান করা কঠিন। ইসরায়েলি সমাজে রাজনৈতিক মেরুকরণ থাকলেও ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইহুদি ভোটারদের মধ্যে সাধারণভাবে ঐকমত্য রয়েছে।
তবে গ্রে মনে করেন, নেতৃত্বের পরিবর্তনে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের চরমপন্থী সহিংসতার ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে নতুন সরকার কিছুটা সংযম দেখাতে পারে। অর্থাৎ, মূল নীতি অপরিবর্তিত থাকলেও তার বাস্তবায়নের ধরনে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।
বসতি স্থাপন প্রকল্পও অব্যাহত থাকবে। তবে আইজেনকটের সরকার বসতি স্থাপনকারীদের লাগামহীন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে। বিশেষ করে ‘সি’ এলাকার বাইরেও নতুন বসতি স্থাপনকেন্দ্র গড়ে তোলা কিংবা ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রতিদিনের সহিংস হামলার মতো কর্মকাণ্ড সীমিত করার চেষ্টা হতে পারে। কারণ এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের চাপ বাড়ায়।
অর্থাৎ, বসতি স্থাপন প্রকল্প বন্ধ করার পরিবর্তে এর সবচেয়ে প্রকাশ্য ও আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রতকর দিকগুলো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হতে পারে।
এখানেই দুই সরকারের মধ্যে মূল পার্থক্যটি স্পষ্ট হয়। নেতানিয়াহু সরকারের অধীনে ভূখণ্ড দখল, বাস্তুচ্যুতি, সংযুক্তিকরণ এবং ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অনেক বেশি প্রকাশ্য ও আগ্রাসীভাবে সামনে এসেছে। আইজেনকটের সরকার একই ধরনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তুলনামূলকভাবে সংযত ও কূটনৈতিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারে।
অর্থাৎ, সংঘাতের সমাধানের পরিবর্তে সংঘাত ব্যবস্থাপনা, গণহত্যার পরিবর্তে বর্ণবাদী বিভাজনমূলক নিয়ন্ত্রণ এবং প্রকাশ্য সম্প্রসারণবাদের পরিবর্তে ধাপে ধাপে ভূখণ্ডগত বাস্তবতা তৈরির কৌশল সামনে আসতে পারে। আগের ইসরায়েলি সরকারগুলো যে মুখোশের আড়ালে নিজেদের আগ্রাসী ও সম্প্রসারণবাদী নীতি পরিচালনা করত, নতুন সরকার সেই মুখোশ ফিরিয়ে আনতে পারে। তবে এর ফলে মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য বদলে যাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
আইজেনকটের সরকার গঠনে ফিলিস্তিনি আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাদের সমর্থন শুধু সরকার গঠনের সংখ্যাগত সমীকরণেই নয়, পার্লামেন্টারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। শক্তিশালী আরব প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে নেসেটের স্পিকার ও সাংগঠনিক কমিটির প্রধান পরিবর্তন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতা তদন্তে কমিশন গঠন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করেছে এমন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হতে পারে।
এ ছাড়া আরব শহর ও জনপদের জন্য বাজেট বৃদ্ধি, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসন খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, গ্রাম ও বাড়িঘর ধ্বংস বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া, অপরাধ ও সহিংসতা মোকাবিলা এবং পরিকল্পনা ও নির্মাণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করার মতো বিষয়েও অর্জন সম্ভব।
এ ধরনের সহযোগিতা ইসরায়েলের সংসদীয় রাজনীতিতে আরব দলগুলোর প্রভাব বাড়াবে এবং রাজনৈতিক সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমাতে পারে। কিন্তু এই সহযোগিতার মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনিদের জাতীয় মুক্তি কিংবা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে মৌলিক পরিবর্তন আসবে, এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। বরং আরব দলগুলো হয়তো নিজেদের নাগরিকদের দৈনন্দিন অধিকার ও জীবনমানের প্রশ্নে কিছু বাস্তব অর্জন নিশ্চিত করতে পারবে। কিন্তু ইসরায়েলের সামগ্রিক ফিলিস্তিননীতি পরিবর্তনের ক্ষমতা তাদের সীমিতই থাকবে।
আইজেনকটের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে এবং যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয় উদ্যোগ নিলে একটি নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এর ভিত্তি হতে পারে অসলো চুক্তির অবশিষ্ট কাঠামো, ট্রাম্পের পরিকল্পনা ও মানচিত্র এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সমঝোতা।
তবে এই সমাধান ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাশিত স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমাধান হবে না। বরং এমন একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণা সামনে আসতে পারে, যার সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় ভিত্তি অত্যন্ত সীমিত। এ ধরনের সমাধানে ১৯৬৭ সালে দখল করা ভূখণ্ডের ওপর পূর্ণাঙ্গ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে না। জেরুজালেম কিংবা এর বড় অংশ রাষ্ট্রটির অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সমস্যারও সমাধান হবে না।
এই সমঝোতার বৃহত্তর লক্ষ্য হবে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ, পরবর্তী সময়ে অন্যান্য আরব ও ইসলামি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং ইরানকে মোকাবিলায় একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
তবে এ ধরনের সমাধানের পথে বড় বাধা রয়েছে। ফিলিস্তিনিদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এমন বন্দোবস্তের বিরোধিতা করবে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের এমন দলও রয়েছে, যারা আইজেনকটের সম্ভাব্য সরকারের অংশ হতে পারে, কিন্তু তাদের ঘোষিত সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কর্মসূচির তুলনায় এই সমঝোতাকে ছাড় হিসেবে বিবেচনা করবে।
এ ছাড়া, এ ধরনের উদ্যোগ সফল করার জন্য ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিজয় প্রয়োজন বলে যে ধারণা রয়েছে, সেটিও অনিশ্চিত। যুদ্ধ নতুন করে শুরু হওয়ার ইঙ্গিত যেমন রয়েছে, তেমনি যুদ্ধ শেষ করার জন্য সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে যুদ্ধ শেষ হলেও তা কোনো নির্ণায়ক বিজয় ছাড়াই শেষ হতে পারে। অর্থাৎ, কোনো পক্ষই প্রকৃত অর্থে বিজয়ী বা পরাজিত হবে না, যা ইরানের জন্যও একধরনের কৌশলগত সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
যুদ্ধের এই পরিণতি যুদ্ধ-পরবর্তী আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং উদীয়মান বিশ্বব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলবে। কারণ বিশ্বব্যবস্থা ক্রমেই একমেরুকেন্দ্রিক কাঠামো থেকে বহুমেরুকেন্দ্রিক ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বের শক্তির ভারসাম্য, ক্ষমতার সমীকরণ এবং রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যস্ত হতে পারে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন আগাবেকিয়ানকে যখন প্রশ্ন করা হয়, দুই দশক ধরে পার্লামেন্ট নির্বাচন না হওয়া এবং আবারও নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কারণ কী, তখন তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নির্বাচন আয়োজনের অনুকূলে নয়। এই বক্তব্য ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের একটি দিক তুলে ধরে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়া, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি এবং নেতৃত্বের জবাবদিহির অভাব ফিলিস্তিনি রাজনীতিকে দুর্বল করেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের নির্বাচন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাও ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব রাজনৈতিক উদ্যোগের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে।
ফিলিস্তিনিদের জন্য ইসরায়েলের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলাফল তাদের দৈনন্দিন জীবন, নিরাপত্তা, চলাচল, কর্মসংস্থান, ভূখণ্ড এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করে। কিন্তু ইসরায়েলের কোনো একটি রাজনৈতিক শিবির ক্ষমতায় এলেই ফিলিস্তিনিদের কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাওয়া যাবে, এমন ধারণা বাস্তবতাবিবর্জিত।
নেতানিয়াহুর পরাজয় ইসরায়েলের সবচেয়ে চরমপন্থী রাজনৈতিক ধারার জন্য একটি আঘাত হতে পারে। কিন্তু তা ইসরায়েলের ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের পরাজয় নয়। কারণ প্রতিযোগিতাটি এখনো মূলত জায়নবাদী রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতরে, ডানপন্থী ও আরও চরম ডানপন্থী শক্তির মধ্যে।
এই বাস্তবতা ফিলিস্তিনিদের সামনে নিজেদের রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, নেতৃত্বগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। নির্বাচন, নেতৃত্ব পরিবর্তন কিংবা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের রাজনৈতিক সক্ষমতা ও ঐক্য পুনর্গঠন করতে না পারলে ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ অন্যদের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের ওপরই নির্ভরশীল থেকে যাবে।
গাদি আইজেনকট প্রধানমন্ত্রী হলে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় নীতিতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সীমিত সহযোগিতা, আটকে রাখা রাজস্বের অর্থ ছাড়, ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং গাজা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় তুলনামূলক নমনীয়তা দেখানোর সম্ভাবনা রয়েছে। আরব দলগুলোর সংসদীয় সমর্থন ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কিছু সংস্কার ও নাগরিক অধিকার আদায়ের সুযোগও তৈরি করতে পারে।
কিন্তু এসব পরিবর্তনকে ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় নীতির মৌলিক রূপান্তর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আইজেনকটের অবস্থান ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে নয়। তাঁর সম্ভাব্য সরকারের লক্ষ্যও পশ্চিম তীরের বসতি স্থাপন প্রকল্প বন্ধ করা কিংবা ফিলিস্তিনিদের পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা নয়। বরং ভূখণ্ডের ওপর ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কমানোর একটি অপেক্ষাকৃত সংযত কৌশল গ্রহণের সম্ভাবনাই বেশি।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নেতানিয়াহু ইসরায়েলের ফিলিস্তিননীতির একমাত্র নির্মাতা নন। তিনি বরং দেশটির রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি প্রকাশ্য ও আগ্রাসী প্রতিফলন। তাঁর বিদায় সেই বাস্তবতার সব ভিত্তি ভেঙে দেবে না। কারণ ইসরায়েলের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বড় অংশ এবং দেশটির ইহুদি ভোটারদের সংখ্যাগরিষ্ঠের মধ্যে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা ও সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরতার বিষয়ে বিস্তৃত ঐকমত্য রয়েছে।
সুতরাং, আইজেনকট প্রধানমন্ত্রী হলে পরিবর্তন আসতে পারে ইসরায়েলের আগ্রাসন পরিচালনার ভাষায়, কৌশলে ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের পদ্ধতিতে; কিন্তু ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রশ্নে মৌলিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা অত্যন্ত সীমিত।
নেতানিয়াহুর পতন ইসরায়েলের চরম ডানপন্থী রাজনীতির জন্য একটি রাজনৈতিক ধাক্কা হতে পারে, কিন্তু তা ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলি দখলদারত্বের অবসান নয়। শাসকের মুখ বদলালেই রাষ্ট্রের চরিত্র বদলায় না। আর ফিলিস্তিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ সম্ভবত সেখানেই: আগ্রাসন যদি প্রকাশ্য নিষ্ঠুরতা থেকে কূটনৈতিক সংযমের মুখোশ পরে, তাহলে তাকে শান্তি বলে ভুল করার ঝুঁকি তৈরি হয়।
লেখক: আজকের পত্রিকার সহসম্পাদক