হোম > আড্ডা

পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্র

সম্পাদকীয়

’৭১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারী অস্ত্রশস্ত্রসহ ১০ হাজার টন যুদ্ধসামগ্রী নিয়ে পাকিস্তানি জাহাজ এমভি সোয়াত চট্টগ্রামে এসে পৌঁছায়। সেনাবাহিনীতে চাকরি করার অভিজ্ঞতা থেকে আমি বুঝতে পারি যে, এই জাহাজ পাকিস্তান থেকে রওনা দেওয়ার আগে অন্তত এক মাস সময় লেগেছে বিভিন্ন পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিতে, সমরাস্ত্রগুলোকে সংগ্রহ করে বাক্সবন্দী করতে এবং বিভিন্ন স্থান থেকে পরিবহন করে করাচিতে এনে জাহাজ লোড করতে। আরও লক্ষ করলাম যে, এমভি সোয়াত পৌঁছানোর পরদিন থেকে পিআইএ এবং সামরিক বিমানে করে সাদা পোশাকে সশস্ত্র সৈনিকদের ঢাকায় আনা হচ্ছে। এই দুটি ঘটনা বিশ্লেষণ করে বুঝতে পারলাম, বাঙালির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে, আর এটা শুরু হয়েছে জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে।

১ মার্চে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া সংসদ অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করলেন। এই ঘটনায় আমার আর বিন্দুমাত্র সন্দেহ রইল না যে তারা আমাদের শিগগিরই আঘাত হানবে। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি যখন নিশ্চিত হব যে আমি আক্রান্ত হতে যাচ্ছি, তখন আমিই তাদের আক্রমণ করব।

আমি শুরুতে এককভাবে এই আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকি। পরে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করি।

প্রথমেই আমি ইপিআরে আমার খুব অনুগত, বিশ্বস্ত, সাহসী ও পাকিস্তানিদের প্রতি ক্ষুব্ধ সাত-আটজন বাঙালি জেসিও ও এনসিওর সঙ্গে আলোচনা করি, তাঁরা আমার সঙ্গে একমত পোষণ করেন। এরপর বিষয়টি আমি কাপ্তাই উইংয়ের বাঙালি অফিসার ক্যাপ্টেন হারুন আহমদ চৌধুরীকে অবহিত করি এবং তাঁর সম্মতি লাভ করি। আমি বুঝতে পারি আমার পরিকল্পনা সফল করতে হলে সেনাবাহিনীর বাঙালি সৈনিকদের সহযোগিতারও প্রয়োজন হবে। ...তাঁদেরকে আমি আমার পরিকল্পনা অবহিত করি। তাঁরা সবাই আমাকে সমর্থন করেন।

তথ্যসূত্র: মুহাম্মদ লুৎফুল হক কর্তৃক রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের সাক্ষাৎকার গ্রহণ, ২০২১ সালের ২১ নভেম্বর প্রথম আলোর অনলাইনে প্রকাশিত।

আবু ওসমান চৌধুরী

নাজমুল হক

টরন্টোতে ঢাবি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের ইফতার

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিককার প্রস্তুতি পর্ব

এ টি এম হায়দার

মতিউর রহমান

আহমদ রফিক

সাঈদ হায়দার

মোহাম্মদ সুলতান

সমাবর্তন সভার স্মৃতি