হাঁস রোস্ট করার সবচেয়ে প্রথম লিখিত উল্লেখ পাওয়া যায় চীনের উত্তর ও দক্ষিণ রাজবংশের সময়কালের একটি রান্নার বইয়ে। ১২৭১ সালে মঙ্গোল নেতা কুবলাই খান যখন ইউয়ান রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন, তখন এই খাবারটি রাজকীয় খাদ্যতালিকার অংশ হয়ে ওঠে। ১৩৩০ সালে সম্রাটের প্রধান পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসক হু সিহুই তাঁর রান্নার বইয়ে হাঁস রোস্টের রেসিপি তালিকাভুক্ত করেন। ১৪২১ সালে সম্রাট ইয়ংলে যখন রাজধানী নানজিং থেকে পিকিংয়ে (বর্তমান বেইজিং) স্থানান্তরিত করেন, তখন রাজকীয় শেফরাও রাজপ্রাসাদের এই রেসিপিটি সেখানে নিয়ে যান। পরে পিকিং তথা বেইজিংয়ের বড় আকারের ‘হোয়াইট বেইজিং ডাক’ দিয়ে এই পদটি তৈরি শুরু হয়, যা ‘পিকিং ডাক’ নামে পরিচিতি পায়। পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে রেস্তোরাঁর মাধ্যমে ধীরে ধীরে জনসাধারণের খাবার হয়ে ওঠে বিশেষ প্রক্রিয়ায় চামড়াসহ রোস্ট করা হাঁসের এই পদ। সোনালি মচমচে চামড়া আলাদা করে কেটে সামান্য চিনি বা রসুনের সসে ডুবিয়ে খাওয়া হয়। পাতলা করে কাটা মাংস, শসা, পেঁয়াজপাতা এবং মিষ্টি শিমের সস নরম ও পাতলা গমের রুটিতে মুড়িয়ে রোল বানিয়ে খাওয়া হয়। হাঁসের বাকি হাড় ও চামড়া দিয়ে সবজি সহযোগে একটি সুস্বাদু এবং ঘন স্যুপ তৈরি করে শেষ পাতে দেওয়া হয়।
ছবি সৌজন্য: হোয়াট টু কুক টুডে