একাত্তরের ১৮ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মেজর নাজমুল হককে নওগাঁয় ৭ ইপিআর উইংয়ের অধিনায়ক করে পাঠানো হয়। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর গণহত্যা শুরু হলে পরদিন স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে নওগাঁ মহকুমাকে শত্রুমুক্ত স্বাধীন বাংলার অংশ হিসেবে ঘোষণা করেন তিনি। পরে স্বেচ্ছাসেবক যুবকদের নিয়ে ইপিআর মুজাহিদ বাহিনী গঠন করেন এবং অধিনায়ক হিসেবে শত্রুমুক্ত করেন গোটা বগুড়া জেলা।
এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ৭ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন নাজমুল হক। এই সেক্টরের গেরিলা যুদ্ধগুলো পরিচালনার পাশাপাশি মুক্তিবাহিনীকে প্রশিক্ষণও দিতেন তিনি। যাঁদের প্রশিক্ষণ দিতেন তাঁরা আগে থেকে প্রথাগত সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিলেন না। বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর তাঁর অধীনে এই সেক্টরেই যুদ্ধ করেন।
২৭ সেপ্টেম্বর মেজর নাজমুল হক মিত্র বাহিনীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে ভারতের শিলিগুড়ি ক্যান্টনমেন্ট থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। বিজয়টা আর দেখা হলো না এই ৩৩ বছর বয়সী যুবকের।
ছবি: সংগৃহীত