পাবনা শহরের দক্ষিণ রাঘবপুর মহল্লায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ৪০০ বছরের ঐতিহ্য জোড়বাংলা মন্দির। মন্দিরটির নির্মাণকালের সঠিক কোনো তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায় না। তবে রাধারমণ সাহা রচিত পাবনা জেলার ইতিহাস গ্রন্থ অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদের নবাবের তহশিলদার ব্রজমোহন ক্রোরী ১৮ শতকে এটি নির্মাণ করেন।
এখানে গোপীনাথের মূর্তি ও তাঁর নামে পূজা হওয়ায় একসময় মন্দিরটি ‘গোপীনাথ মন্দির’ হিসেবে পরিচিত ছিল। ইটের বেদির ওপরে টেরাকোটার শৈল্পিক কারুকার্যে নির্মিত হয় মন্দিরটি। সম্মুখভাগ থেকে শুরু করে ভেতরসহ তার চারপাশের দেয়ালে ছিল দৃষ্টিনন্দন পোড়ামাটির কারুকার্য। মন্দিরের আকর্ষণীয় দিক হলো দোচালা আকৃতির ছাদ। এর সম্মুখ অংশের তিনটি প্রবেশপথ কারুকার্যখচিত টেরাকোটায় পরিপূর্ণ ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই নকশার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গেছে। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে মন্দিরের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাবনা জেলা প্রশাসনের প্রচেষ্টায় ১৯৬০ সালে মন্দিরটি সংস্কার করা হয়।
তথ্য ও ছবি: শাহীন রহমান, পাবনা