বিনিয়োগ হতেই পারে, তবে সেটার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। নিজস্ব সম্পদের যথাসম্ভব ব্যবহার বাড়াতে হবে। বুঝতে হবে, বিদেশিরা বিনিয়োগ করে মুনাফার জন্য।
ওই বিনিয়োগ থেকে স্থানীয় বা সাধারণ জনগণ কতটুকু উপকৃত হবে, তা-ও আমাদের জানা নেই। বাস্তবতা হলো, এর মাধ্যমে কিছুসংখ্যক লোক বেশি উপকৃত হয়। মুনাফার একটি বড় অংশ আবার চলে যায় প্রশাসন এবং রাজনীতিবিদদের হাতে। সবকিছুই সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। আসল কথা হলো, আমাদের নিজস্ব শিল্প, উপাদান ও ক্ষমতা নিরূপণ করতে হবে। বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। শতাব্দীকালব্যাপী মূলত কৃষি থেকেই মানুষ উপকৃত হচ্ছে। এটির ওপর জোর দিলে বিনিয়োগের আদৌ প্রয়োজন হবে কি না, তা-ও ভেবে দেখতে হবে। আমাদের নিজস্ব উদ্যোগ এবং সম্পদে কতটুকু করা যায়, তা যদি আমরা বস্তুনিষ্ঠভাবে ভেবে দেখি, তাহলে বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করতে হবে না বলেই আমার বিশ্বাস।
রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পর বিরোধিতা এ ক্ষেত্রে ধ্বংসাত্মক ফল বয়ে আনছে। যাঁরা নির্বাচনে প্রাধান্য লাভ করেছেন, তাঁরা সুবিধাভোগী, কোটি কোটি টাকার হিসাব নিয়ে তাঁরা ব্যস্ত। আসলে দেশের কল্যাণ নিয়ে ভাববার সময় কোথায় তাঁদের? পরস্পর বিরোধিতার জন্যই আমরা বিদেশিদের প্রাধান্য দিচ্ছি। কে কত বেশি বিদেশি টাকা নিয়ে আসতে পারে, তা নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে।
এ দেশে একজনও বিদেশি বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন নেই। এমনকি এদের উপস্থিতিও এ দেশের জন্য ধ্বংসাত্মক। বহু আগেই আমাদের নিজস্ব দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার যথেষ্ট সুযোগ ছিল, এখনো আছে। যা হয়েছে, তা হলো মস্তিষ্কহীনভাবে আমরা সেসব সুযোগ নষ্ট করেছি।
...বিশ্ববিদ্যালয়ে যাঁদের নির্বাচিত করা হচ্ছে, তাঁদের প্রায় সবাই এসেছেন স্বজনপ্রীতি ও দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির সুযোগে। সব রাজনৈতিক দলই একই কাজ করেছে। স্বজনপ্রীতিতে বড় দলগুলোর মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। আমাদের সমস্যা মোকাবিলায় বিদেশিদের নিয়ে এসে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করি। অবশিষ্ট টাকা নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে যায় সুবিধাভোগীদের ভেতর। আমি প্রায়ই ঠাট্টা করে বলি, বিষয়টি এত জঘন্য যে আমি যুক্তি হারিয়ে ফেলি।
তথ্যসূত্র: প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়া কর্তৃক জামাল নজরুল ইসলামের সাক্ষাৎকার গ্রহণ, বিভুরঞ্জন সরকার সম্পাদিত ‘নানা চিন্তা নানা মত’, পৃষ্ঠা ৫৯-৬০