হোম > নারী > আইনি পরামর্শ

পরিবারের সদস্য শারীরিক কিংবা মানসিক নির্যাতন করলে ভুক্তভোগী আদালতে অভিযোগ করতে পারেন

ফিচার ডেস্ক

ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

প্রশ্ন: আমার ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। আমাদের বাবা নেই। মা, আমি আর ভাই থাকি। খুব সম্প্রতি মায়ের গায়ে হাত তুলেছে ভাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে সে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিল কয়েকবার। আমরা তার বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য তাদের বাসায় দাওয়াত করি। সেখানে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। বন্ধুরা চলে যাওয়ার পর মা কথা বলতে গেলে একপর্যায়ে সে মাকে মারধর করে। আমি বাধা দিতে গেলে সে আমাকেও মারধর করে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলে। সে কথায় কথায় বলে, ‘বাবা যা কিছু রেখে গেছে—সব আমার’। সম্পত্তি নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। কিন্তু আমার ভাইকে এভাবে দেখতে চাই না। তবে সে সম্প্রতি কাউন্সেলিং নেওয়া শুরু করেছে। কিন্তু মায়ের গায়ে হাত তোলার পর থেকে আমি বেশি ভয়ে আছি। আইনগতভাবে কোনো ব্যবস্থা নিলে কি এ সমস্যা থেকে সমাধান পাওয়া সম্ভব?

তাসনিম সাথী, ঢাকা

উত্তর: আপনি বেশ কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, সেটা বুঝতে পারছি। আমরা যা বলতে পারি—

আইনগতভাবে এটি অপরাধ

মাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা বাংলাদেশের আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এখানে দুটি আইনি দিক প্রযোজ্য হতে পারে—

ক) ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স (প্রিভেনশন অ্যান্ড প্রোটেকশন) অ্যাক্ট, ২০১০

এই আইনের অধীনে, পরিবারের সদস্য দিয়ে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন হলে ভুক্তভোগী আদালতে অভিযোগ করতে পারেন। আদালত থেকে কয়েক ধরনের আদেশ পাওয়া যায়—

  • নির্যাতনকারীকে নির্যাতন বন্ধ করতে নির্দেশ
  • তাঁকে বাসা থেকে সাময়িকভাবে দূরে রাখার আদেশ
  • ভুক্তভোগীর নিরাপত্তাব্যবস্থার আদেশ
  • কাউন্সেলিং কিংবা পুনর্বাসনের নির্দেশ

খ) পেনাল কোড ১৮০৬

মারধর করলে আঘাতের অভিযোগে থানায় জিডি বা মামলা করা যায়।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

আপনি বাস্তবে যেটা করতে পারেন, তা হলো আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। যদি আবার সহিংসতা হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে কাছের আত্মীয় অথবা বিশ্বস্ত প্রতিবেশীকে বিষয়টি জানান। প্রয়োজনে সাময়িকভাবে নিরাপদ জায়গায় থাকুন।

এ ছাড়া থানায় জিডি করতে পারেন। সরাসরি মামলা না করে প্রথমে জিডি করা অনেক সময় ভালো হয়। এতে—

  • ঘটনার রেকর্ড থাকবে
  • ভবিষ্যতে সমস্যা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে

ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে আবেদন

ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট অনুযায়ী আদালতে আবেদন করলে—

  • আদালত তাকে সতর্ক করতে পারে
  • নির্যাতন বন্ধের নির্দেশ দিতে পারে
  • কাউন্সেলিংয়ের নির্দেশও দিতে পারে

কাউন্সেলিংয়ে উৎসাহ দিন

আপনার ভাই ইতিমধ্যে কাউন্সেলিং নিচ্ছেন, এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে অনেক সময়—

  • ডিপ্রেশন
  • অ্যাংগার ইস্যু
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের চাপ
  • বাবার মৃত্যুজনিত ট্রমা

এসবের কারণে আচরণ হঠাৎ বদলে যেতে পারে।

এ ছাড়া সম্পত্তির বিষয়ে আপনার ভাই যা বলছেন, সেটি আইনগতভাবে সঠিক নয়। বাংলাদেশের উত্তরাধিকার আইনে, মা, ছেলে ও মেয়ে—সবাই কিন্তু বৈধ উত্তরাধিকারী। তাই কেউ একা সম্পত্তি দাবি করতে পারে না।

আপনি চাইলে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ওমেন লইয়ারস অ্যাসোসিয়েশন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ন্যাশনাল লিগ্যাল এইড সার্ভিস অর্গানাইজেশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সাহায্য নিতে পারেন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনার ভাইয়ের আচরণ ভুল এবং আইনত অপরাধ। কিন্তু যেহেতু আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন এবং কাউন্সেলিং নিচ্ছেন, তাই আইনি ব্যবস্থা এবং মানসিক চিকিৎসা—দুটো একসঙ্গে চলা কার্যকর হতে পারে।

পরামর্শ দিয়েছেন: ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

কাবিননামায় ক্ষমতা দেওয়া থাকলে মুসলিম স্ত্রী নিজে থেকে তালাক দিতে পারেন

দেশে বিবাহবিচ্ছেদ তাৎক্ষণিক বা সহজ প্রক্রিয়া নয়

সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে সম্ভব নয়

শরিয়তি ফারায়েজ অনুযায়ী মেয়ের সন্তান নানার সম্পত্তির সরাসরি ওয়ারিশ হয় না

শুধু চিঠিতে তালাক লিখে দিলেই তালাক সম্পূর্ণ হয় না

যৌতুক দাবি ও গ্রহণ করা এবং যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ

জন্মনিবন্ধন করতে বাবার এনআইডি বা তথ্য বাধ্যতামূলক নয়

শ্বশুর-শাশুড়ি বা অন্য কেউ স্বামীর হয়ে তালাক দিতে পারেন না

মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে পাল্টা ফৌজদারি মামলা করা যায়

গণপরিবহনে হয়রানি, যেভাবে আইনি ব্যবস্থা নেবেন