আমি একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে প্রায় তিন বছর। সম্প্রতি একটি মোবাইল ফোন নম্বর থেকে আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। কখনো ছবি আবার কখনো মেসেজের স্ক্রিনশট ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ইতিমধ্যে আমার কাছ থেকে টাকাপয়সাও হাতিয়ে নিয়েছে নম্বরটির ব্যবহারকারী।
আমি ডিভোর্সি উল্লেখ করলাম; কারণ, ডিভোর্সের পর আমাকে নিয়ে নানা মহলে নানা কথা হয়। আমি এসব নিয়ে মানসিক যন্ত্রণায় আছি। আমি টাকাপয়সা না দিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিতে চাই। নির্দিষ্টভাবে কাউকে যদি সন্দেহের তালিকায় না রাখি, তাহলে পদক্ষেপ নেব কীভাবে? যদিও সেই নম্বর আমার কাছে আছে। শুধু নম্বরের ভিত্তিতে কি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব?
সৈয়দা শারমিন হক, ঢাকা
উত্তর: হ্যাঁ, শুধু মোবাইল ফোন নম্বরের ভিত্তিতেও আপনি আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারেন। আপনি কাউকে নিশ্চিতভাবে সন্দেহ না করলেও সমস্যা নেই। বাংলাদেশে মোবাইল নম্বর, কল রেকর্ড, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে লেনদেন, মেসেজ, স্ক্রিনশট—এসবের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা যায়। আপনার ক্ষেত্রে যেটা হচ্ছে, সেটা ব্ল্যাকমেল, অনলাইনে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অর্থ আদায়ের মধ্যে পড়ে।
১. সব প্রমাণ সংরক্ষণ করুন, নম্বরটি সেভ রাখুন, কল লগ, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম বা ফেসবুক মেসেজের স্ক্রিনশট রাখুন। টাকা পাঠিয়ে থাকলে বিকাশ/নগদ/ব্যাংক লেনদেনের স্ক্রিনশট বা স্টেটমেন্ট রাখুন। ভয়ভীতি বা ‘ফাঁস করে দেব’ ধরনের মেসেজ বিশেষভাবে সংরক্ষণ করুন। কোনো কিছু ডিলিট করবেন না।
২. পুনরায় টাকা পাঠাবেন না। ব্ল্যাকমেলকারীরা সাধারণত একবার টাকা পেলে বারবার টাকার জন্য চাপ দেয়। টাকা দেওয়া বন্ধ করাসহ যোগাযোগ সীমিত করুন।
৩. নিকটস্থ থানায় জিডি করতে পারেন। সেখানে বলবেন যে অজ্ঞাত ব্যক্তি/ব্যক্তিরা একটি নির্দিষ্ট নম্বর থেকে হয়রানি করছে। ব্যক্তিগত ছবি/তথ্য ফাঁসের ভয় দেখিয়ে টাকা নিয়েছে এবং আপনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। থানা নম্বর ট্রেস করার জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারেন।
৪. সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ করুন। বাংলাদেশে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন বা পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর ওমেনে অভিযোগ করতে পারেন।
৫. আপনার ঘটনায় বাংলাদেশে প্রচলিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন/সাইবার সম্পর্কিত অপরাধ, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন, মানহানি ও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের হুমকি—এসবের আওতায় অভিযোগ হতে পারে। সুনির্দিষ্ট ধারা আইনজীবী বা তদন্তকারী নির্ধারণ করবেন।
ডিভোর্সি বলে আপনাকে ভয় দেখানো, অপমান করা কিংবা ব্ল্যাকমেল করার অধিকার কারও নেই।
পরামর্শ দিয়েছেন ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট