লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম আঙ্গারপাড়া গ্রামের খোদেজা আক্তার সুমা ও ইসমাইল হোসেন দম্পতির প্রথম সন্তান ফাতেমা ইসমাঈল কেয়া। ছোটবেলায় কেয়ার বই পড়ার নেশাটা ধরিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর মা। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বানান শেখার জন্য মা তাঁকে অন্যান্য বই পড়তে দিতেন। আর কেয়া তা বানান করে করে পড়তেন।
এভাবেই বানান আয়ত্তে আনার পর তিনি পুরোদমে বইপড়ুয়া হয়ে ওঠেন। একসময় বই পড়ার অভ্যাস এতটাই বেড়ে যায় যে টিফিনের খরচ বাঁচিয়ে তিনি বইকেনা শুরু করেন। বইয়ের সঙ্গে এই গভীর সেতুবন্ধনের কারণে কেয়া পেয়েছেন বিভিন্ন সম্মাননা। এর মধ্যে ঐতিহ্য প্রকাশনী থেকে পেয়েছেন বুক ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাওয়ার্ড ২০২৫। এ ছাড়া বর্ষসেরা বুক ফটোগ্রাফার খেতাবও পেয়েছেন। বর্তমানে কেয়ার সংগ্রহে রয়েছে ২০টির বেশি ক্রেস্ট এবং ১৫০টির বেশি সার্টিফিকেট।
কেয়া এখন পড়াশোনা করছেন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে। রামগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাসের পর শহরে আসার সময় কেয়ার সংগ্রহে ছিল এক হাজারের বেশি বই। বেশির ভাগ বই পড়া শেষ হওয়ায় এবং নিজে গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসায় তিনি বইগুলোর অধিকাংশ গ্রামের বইপ্রেমী মানুষ ও সহপাঠীদের মাঝে বিলিয়ে দেন। শহরে আসার পর টিউশনির টাকা দিয়ে আবার নতুন করে বই কেনা শুরু করেন তিনি।
কেয়া মূলত থ্রিলার, অনুবাদ, চিরায়ত সাহিত্য এবং সমকালীন লেখকদের ফিকশন বই পড়তে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে এবং নিজের পড়া বইগুলোর রিভিউ সবার কাছে পৌঁছে দিতে ২০২৫ সালের জুন মাসে কেয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পেজ খোলেন। বর্তমানে তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ও পেজ মিলিয়ে ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় ৩৭ হাজার। এই প্ল্যাটফর্মে তিনি নিয়মিত বইয়ের ছবি, বই কথা এবং পাঠ-প্রতিক্রিয়া শেয়ার করেন। এ পর্যন্ত তিনি দুই শতাধিক বইয়ের রিভিউ এবং ভিডিও তৈরি করেছেন।
শুধু তা-ই নয়, কেয়ার এই বইপ্রেম দেখে তাঁর খালাতো বোন সিদরাতুল মুনতাহা পূর্ণও বই পড়ায় দারুণভাবে আগ্রহী হয়ে ওঠে। নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া পূর্ণর বইয়ের দুনিয়ায় আসাটা ছিল বেশ মজার। কেয়া বইয়ের বিভিন্ন চরিত্র সাজানোর জন্য পূর্ণকে মডেল বানাতেন এবং গল্পটা তাকে বুঝিয়ে দিতেন। এভাবেই ধীরে ধীরে পূর্ণকে ছোটদের গল্প এবং একটু বড় হওয়ার পর হুমায়ূন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও আনিসুল হকদের বই পড়তে দেন কেয়া। কেয়ার উৎসাহে পূর্ণ নিজের নামে একটি ফেসবুক পেজ খোলে। সেখানে সে-ও নিয়মিত বই নিয়ে কথা বলে এবং কবিতা আবৃত্তি করে। ভবিষ্যতে বই নিয়ে আরও বড় পরিসরে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন কেয়া। বর্তমানে তিনি স্বল্প পরিসরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে বিনা মূল্যে বই পাঠিয়ে দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে বই পাঠানোর পরিধিটা আরও বড় করতে চান তিনি। এ ছাড়া নিয়মিত বই নিয়ে আলোচনা ও পাঠচক্র করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।