২৫ এপ্রিল বিশ্ব পেঙ্গুইন দিবস। প্রখ্যাত প্রাণিবিজ্ঞানী ড. পি ডি বোরসমাকে তাঁর গবেষণার গুরুত্বের জন্য ‘পেঙ্গুইনের জেন গুডাল’ বলা হয়। পাঁচ দশকের বেশি সময় তিনি পেঙ্গুইন ও সামুদ্রিক পাখিদের সংরক্ষণে কাজ করছেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর ইকোসিস্টেম সেন্টিনেলসের পরিচালক।
১৯৭০-এর দশকে গ্যালাপাগোস পেঙ্গুইন দিয়ে বোরসমার গবেষণার কাজ শুরু। ১৯৮২ সাল থেকে তিনি আর্জেন্টিনার পুন্টা টোম্বোতে বিশ্বের বৃহত্তম মাগেলানিক পেঙ্গুইন প্রকল্প পরিচালনা করছেন। তিনি ৪৪ হাজারের বেশি পেঙ্গুইন ছানাকে ব্যান্ডিং করে তাদের জীবনচক্র পর্যবেক্ষণ করেছেন। সমুদ্রে তেল নিঃসরণের ফলে পেঙ্গুইনদের মৃত্যু ঠেকাতে তিনি সফল আন্দোলন করেন। সেই আন্দোলনের ফলে তেলবাহী জাহাজের রুট উপকূল থেকে আরও দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাঁর গবেষণার ভিত্তিতেই আর্জেন্টিনায় সামুদ্রিক সুরক্ষিত অঞ্চল গঠিত হয়েছে।
বর্তমানে বোরসমা জলবায়ু পরিবর্তন ও সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান রক্ষায় বিশ্বজুড়ে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছেন। একবার গ্যালাপাগোস দ্বীপের সমুদ্রতীরবর্তী একটি খাড়া পাহাড়ের খাঁজে পেঙ্গুইনের বাসা পরীক্ষার সময় হঠাৎ পাহাড়ের সেই অংশ ভেঙে পড়ে। তিনি দুটি পেঙ্গুইন হাতে নিয়ে সরাসরি সাগরের পানিতে পড়ে যান। পাহাড় থেকে পড়ার সময় তাঁর পা কেটে গেলেও তিনি পেঙ্গুইন দুটিকে পরম মমতায় পানির ওপরে তুলে ধরে রেখেছিলেন, যাতে তাদের কোনো ক্ষতি না হয়। পরে তীরে উঠে তিনি সেগুলোকে নিরাপদে বাসায় ফিরিয়ে দেন।