হোম > নারী

নারীর ওপর দায় চাপানোর চর্চা লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বাড়াচ্ছে: সংলাপে বক্তারা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত সংলাপে বক্তারা। ছবি: আজকের পত্রিকা

সমাজে ঘৃণা-বিদ্বেষের চর্চা বাড়ছে। নারীর ওপর দায় চাপানোর প্রথাগত চর্চার বিস্তার ঘটছে। সমাজে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি ও ধর্মকে নানাভাবে নারীর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টাও করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নারীর অগ্রগতিকে রোধ করার জন্য কুসংস্কারাছন্ন উগ্র বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এসব কিছুই লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

আজ শনিবার রাজধানীতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কার্যালয়ে ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে এসব কথা বলা হয়।

সংলাপের শুরুতে উপস্থাপিত মূল নিবন্ধে জানানো হয়, চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত পাঁচ মাসে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১ হাজার ৩৫ জন নারী ও মেয়েশিশু। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৬৬টি মেয়েশিশু, ৭২ জন নারীসহ ২৫০ জন।

সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা নিরসনে নানা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সহিংসতা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই সমস্যা সমাজের অনেক গভীরে। নারী ও শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সহিংসতা প্রতিরোধে সবার একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, নারীর অধিকার খর্ব করার ক্ষেত্রে এখনো পরিবারগুলোতে ধর্মকে ব্যবহার করা হয়। সাইবার বুলিং বাড়ছে। ইমামদের প্রশিক্ষণের মধ্যে নামাজের খুতবায় নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের বিষয়টি যুক্ত করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় বাংলাদেশে আইন যথেষ্ট আছে। এই আইনের সঠিক প্রয়োগ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘আমরা নারী ও শিশু সহিংসতার ক্ষেত্রে এক দুর্যোগপূর্ণ সময় পার করছি।...আমরা এমন সমাজ হিসেবেই গড়ে উঠব নাকি শিশুদের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলব, সেই বিষয়টি আমাদের ভাবতে হবে। সহিংসতা প্রতিরোধে আমাদের ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে।’

স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় কাঠামো এখনো আমরা তৈরি করতে পারিনি। নারী আন্দোলনের ফলে আইন প্রণীত হলেও তা বাস্তবায়িত হয় না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধ প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।’

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মফিদুল হক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উপপুলিশ কমিশনার মোছা. লিজা বেগম, বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহজাবিন হক প্রমুখ।

খেলাধুলায় পুরুষদের একচেটিয়া আধিপত্য কারণ কি শুধুই প্রচার নাকি বিবর্তন

চুলার ধোঁয়ার যন্ত্রণা, গ্রামীণ নারীর নীরব সংগ্রাম

বিশ্বকাপ মঞ্চে নারীদের প্রতিবাদের ডাক

ফিফার প্রথম নারী ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ

ডিজিটাল মাধ্যমে নারীবিদ্বেষ মোকাবিলায় চলচ্চিত্র উদ্যোক্তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্রিটিশদের দুর্গ জয় করা এক বাঙালি নারী

আলোচিত বনাম আড়ালে থাকা বিচারের সংস্কৃতি

বিশ্ব সাইকেল দিবস চাকা ঘুরিয়ে ইতিহাস বদলানো নারী অ্যানি

যুদ্ধের অজুহাত: পশ্চিমারা যেভাবে ‘নারী অধিকার’কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে

মোবাইল ফোনে হয়রানির সব প্রমাণ সংরক্ষণ করুন