প্রধান শিক্ষক স্কুলে আসেন মাতাল হয়ে। স্কুল চত্বরে মলত্যাগ করে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করেন পরিষ্কার করতে। গুটখা খেয়ে পিক ফেলে স্কুলের দেয়াল ভরিয়ে ফেলেন। আর বসে বসে ইউটিউবে ভিডিও দেখেন। এমন সব গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের মাইহার জেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তাঁর এসব কর্মকাণ্ডে বিরক্ত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
আমুরা প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে ওই স্কুলের এক শিক্ষার্থীর ভাষায়, ‘স্যার মদ খেয়ে স্কুলে আসেন। তিনি রাজশ্রী (গুটখার একটি ব্র্যান্ড) চিবিয়ে পুরো স্কুলে থুতু ফেলেন। স্কুলে মলত্যাগ করে আমাদের দিয়ে তা পরিষ্কার করান।’
তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রকে দিয়ে জোর করে মল পরিষ্কার করান প্রধান শিক্ষক। সে বলে, ‘স্যার আমাকে দিয়ে মল পরিষ্কার করিয়েছেন। গালিগালাজ করেছেন। তিনি মাতাল হয়ে আসেন। গুণের নামতাও পড়াতে পারেন না।’
তবে অভিযোগ এখানেই শেষ নয়।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কোল নিয়মিত দেরি করে বিদ্যালয়ে আসেন বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসী ও অভিভাবকেরা। কোনো কোনো দিন দুপুর পর্যন্তও তাঁর দেখা মেলে না। সেই সময় কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় শিশুরা এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ায় বলে দাবি করেছেন অভিভাবকেরা।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে নিয়মিত ক্লাসও হয় না। মিড-ডে মিল (দুপুরের খাবার) ব্যবস্থাও ঠিকমতো পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। আর অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক গুটখার মতো নেশাদ্রব্য খেয়ে বিদ্যালয়ে থুতু ফেলেন। দেয়ালগুলোতে সেসবের দাগও দেখতে পাওয়া যায়।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, ওই শিক্ষক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বিদ্যালয়ে মলত্যাগ করেন এবং শিক্ষার্থীদের দিয়ে তা পরিষ্কার করান। অভিভাবকদের মতে, এটি শিশুদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা ও সুরক্ষার গুরুতর লঙ্ঘন।
এক শিক্ষার্থীর মা রাধা দ্বিবেদী জানান, প্রধান শিক্ষক শিশুদের দিয়ে মেঝে ঝাড়ু দেওয়া এবং পানি আনার কাজও করান। তিনি বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। তিনি তার মনমতো আসেন। যখন আসেন, তখন গুটখা চিবিয়ে পুরো স্কুলে থুতু ফেলেন। মাতাল হয়ে স্কুলে আসেন। কারও সঙ্গে কথা বলার মতো অবস্থায়ও থাকেন না তিনি। স্কুলকে তিনি টয়লেটের মতো ব্যবহার করেন। যেখানে ইচ্ছা সেখানেই কাজ সারেন আর শিশুদের দিয়ে তা পরিষ্কার করান। শুধু আমার সন্তানকেই নয়, অন্য শিশুদের দিয়েও তিনি এ কাজ করান।’
আরেক অভিভাবক বলেন, ‘কোল (অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক) সাধারণত সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে স্কুলে আসেন। তাঁর আসার কোনো টাইম-টেবিল নেই। শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলও দেওয়া হয় না। গুটখার দাগগুলোও পরিষ্কার করা হয় না।’
আরেক শিক্ষার্থীর মা ক্রান্তি যাদব বলেন, ‘তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকেন, আর শিশুরা শুধু এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ায়। মলত্যাগ করার পর তিনি শিশুদের দিয়ে তা পরিষ্কার করান।’
আরেক শিক্ষার্থীর মা রুকমণি বুনকারও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘শিশুরা কোনো খাবার বা পানীয় পায় না। তাদের কিছু পড়ানোও হয় না। এসব দেখারও কেউ নেই।’
এনডিটিভির প্রতিবেদক ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখতে পান, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কোল তাঁর ট্যাবে ইউটিউবে ভিডিও দেখছিলেন। প্রতিবেদক ও ক্যামেরা দেখে অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন তিনি।
এ সময় তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। সে সময়ও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন ওই প্রধান শিক্ষক। তাঁর চারপাশে দেয়ালে গুটখার দাগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে তিনি উত্তর দেন, ‘আমরা এটা পরিষ্কার করে ফেলব।’
ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তা (বিইও) রাজেশ দ্বিবেদী আশ্বাস দিয়ে জানান, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টার প্রিন্সিপাল ওই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছেন। প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করার একটি প্রস্তাব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (ডিও) কার্যালয়ে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।