প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর এক যুবক। কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন নদীতে সোনার কণা সংগ্রহ করে দীর্ঘদিনের প্রেমিকার জন্য নিজ হাতে তৈরি করেছেন বাগদানের আংটি। তাঁর এই ব্যতিক্রমী ভালোবাসার গল্পে মুগ্ধ হয়েছেন প্রেমিকা জোয়ানসহ অনেকে।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ‘দ্য পিপল’ জানায়, কলোরাডোর হুইট রিজ এলাকার বাসিন্দা জ্যাক ভলকানি প্রেমিকা জোয়ানকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভাবছিলেন। তখনই তাঁর মাথায় আসে, বাজার থেকে আংটি না কিনে নিজেই সেটি তৈরি করবেন। আর সে জন্য প্রয়োজনীয় সোনা সংগ্রহ করবেন নদী থেকে।
ভলকানি বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে অনেকক্ষণ ভেবেছিলাম। একসময় হঠাৎ মাথায় এল, আমি নিজেই যদি আংটিটি তৈরি করি? আমার কাছে ভাবনাটি একেবারে নিখুঁত মনে হয়েছিল।’
এরপরই শুরু হয় ভলকানির দীর্ঘ অভিযান। কলোরাডোর বিভিন্ন নদীতে মাসের পর মাস সোনার কণা সংগ্রহ করতে থাকেন তিনি। কাজটি যে কতটা সময়সাপেক্ষ হবে, তা শুরুতেই বুঝতে পেরেছিলেন জ্যাক। তবে সেই কঠিন চ্যালেঞ্জই তাঁকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করে।
ভলকানি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, কাজটি শেষ করতে তো অনন্তকাল লেগে যাবে! কিন্তু অদ্ভুতভাবে এই ভাবনাটিই আমাকে আরও বেশি করে কাজটি করতে উৎসাহিত করেছে।’
অবশেষে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সোনার কণা সংগ্রহ করতে সক্ষম হন ভলকানি। এরপর সেগুলো নিয়ে যান হুইট রিজের গয়না নির্মাতা জ্যাক অ্যালেনের কাছে। সংগৃহীত সোনা গলিয়ে আংটি তৈরির অনুরোধ জানান তাঁকে।
অ্যালেন জানান, এমন ব্যতিক্রমী কাজের প্রস্তাব পেয়ে প্রথমেই তাঁর বেশ আগ্রহ তৈরি হয়। পরে ছাঁচ তৈরি করে সংগৃহীত সোনা গলিয়ে জ্যাকের জন্য আংটিটি তৈরি করেন তিনি। কাঙ্ক্ষিত আংটি হাতে পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত হন জ্যাক।
আংটি তৈরি হলে প্রেমিকাকে চমকে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন ভলকানি। একদিন জোয়ানকে নিয়ে তিনি পাহাড়ি পথে হাঁটতে বের হন। সেখানে তাঁকে নদীতে সোনা সংগ্রহের দৃশ্য ধারণ করা একটি ভিডিও দেখান।
প্রথমে ভিডিওটির উদ্দেশ্য বুঝতে পারেননি জোয়ান। পরে ধীরে ধীরে উপলব্ধি করেন, প্রেমিকের এই সোনা সংগ্রহের পেছনে রয়েছে তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা। বিষয়টি বুঝতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি।
জোয়ান বলেন, ‘ভিডিওতে তাঁকে নদী থেকে সোনা সংগ্রহ করতে দেখে প্রথমে ভেবেছিলাম, ব্যাপারটি খুব চিত্তাকর্ষক। কিন্তু এখন কেন এটি দেখানো হচ্ছে, বুঝতে পারছিলাম না। ভিডিওর মাঝামাঝি গিয়ে বুঝতে পারি, এভাবেই সে আমার আংটি তৈরি করেছে। তখনই আমি কেঁদে ফেলি।’
পুরো ঘটনাটিকে জীবনের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন জোয়ান। তাঁর মতে, ভলকানির এই উদ্যোগ তাঁকে বুঝিয়েছে, তিনি সঠিক মানুষটিকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
ভলকানি জানান, আংটি তৈরির পরও কিছু সোনা অবশিষ্ট ছিল। সেই সোনা দিয়ে নিজের জন্যও একটি আংটি তৈরি করার পরিকল্পনা তাঁর। তিনি বলেন, ‘আমরা যত দূরেই থাকি না কেন, এমনকি কর্মস্থলেও, যখনই নিজেদের আঙুলের দিকে তাকাব, মনে হবে আংটিগুলো আমাদের একসঙ্গে বেঁধে রেখেছে।’