আমেরিকান পর্বতারোহী অ্যালেক্স হনোল্ড কোনো দড়ি ও সুরক্ষা-নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই তাইপে-১০১ আকাশচুম্বী ভবনে আরোহণ করেন। এই আরোহণে তাঁর সময় লাগে ৯০ মিনিট বা দেড় ঘণ্টা। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
হনোল্ড আরোহণ শুরু করার প্রায় ৯০ মিনিট পর ৫০৮ মিটার বা ১ হাজার ৬৬৭ ফুট উচ্চতার টাওয়ারটির চূড়ায় থাকা স্পায়ারের শীর্ষে পৌঁছান। এ সময় নিচের রাস্তায় জড়ো হওয়া জনতার মধ্যে উল্লাসধ্বনি শুরু হয়। লাল রঙের ছোট হাতার শার্ট পরা হনোল্ড তখন মাথার ওপর দুই হাত তুলে এদিক-ওদিক নেড়ে জনতাকে অভিবাদন জানান।
ইয়োসেমাইট ন্যাশনাল পার্কের এল ক্যাপিটান পাহাড়ে দড়িবিহীন অবস্থায় আরোহণের জন্য পরিচিত হনোল্ড, তাইপে ১০১ ভবনের এক কোনা বেয়ে ওপরে ওঠেন। পায়ের ভর হিসেবে তিনি ছোট এল আকৃতির বেরিয়ে থাকা একধরনের কাঠামো ব্যবহার করেন। মাঝেমধ্যে তাঁকে ভবনের গায়ে বেরিয়ে থাকা বড় অলংকারমূলক কাঠামোর পাশ দিয়ে ঘুরে উঠতে হয়। তখন তিনি খালি হাতে টেনে নিজেকে ওপরে তোলেন।
ভবনটিতে মোট ১০১টি তলা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন অংশ ছিল মাঝের ৬৪ তলা। এই অংশটিকেই ‘বাঁশের বাক্স’ বলা হয়, যা ভবনটির একধরনের আলাদা স্বকীয় নকশা তৈরি করেছে। এই অংশটি আটটি ভাগে বিভক্ত। প্রতিটি ভাগে রয়েছে আটটি তলা। প্রতিটি ভাগে প্রথমে খাড়া ও বাইরে ঝুঁকে থাকা দেয়াল বেয়ে উঠতে হয়। এরপর আসে বারান্দা, যেখানে হনোল্ড কিছুক্ষণের জন্য বিশ্রাম নেন, তারপর আবার ওপরে ওঠা শুরু করেন।
তাইওয়ানের রাজধানী শহরের এই আইকনিক ভবনে হনোল্ডের দড়িবিহীন একক আরোহণ নেটফ্লিক্সে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সম্প্রচারে ১০ সেকেন্ডের বিলম্ব ছিল। এই আরোহণটি মূলত শনিবার হওয়ার কথা ছিল। তবে বৃষ্টির কারণে তা ২৪ ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়। এই আরোহণ ঘিরে দর্শকদের মধ্যে যেমন উত্তেজনা দেখা যায়, তেমনি সরাসরি সম্প্রচারে এত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার নৈতিক দিক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
হনোল্ড এই ভবনে আরোহণ করা প্রথম ব্যক্তি নন। তবে কোনো দড়ি ছাড়াই তাইপে ১০১ ভবনে ওঠা তিনিই প্রথম। এর আগে ফরাসি পর্বতারোহী অ্যালাঁ রবার্তো ২০০৪ সালের বড়দিনে ভবনটি বেয়ে উঠেছিলেন। তখন এটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন, এবং সেই আরোহণটি ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অংশ ছিল।