গভীর রাত। ঘুমন্ত ও নিস্তব্ধ পুরো এলাকা। এমন সময় উচ্চশব্দে বেজে উঠেছে গাড়ির অ্যালার্ম। পুরো এলাকার মানুষের ঘুমের বারোটা বেজে গেল। এমন ঘটনা ঘটছে পূর্ব লন্ডনে। আর এই অ্যালার্মের উৎস গুগলের গাড়ির।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য টাইমস’-এর খবর অনুযায়ী, গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের মালিকানাধীন ‘ওয়েমো’ কোম্পানির চালকবিহীন গাড়িগুলো ওই এলাকার একটি সংকীর্ণ সড়কে বারবার আটকে যাচ্ছে এবং উচ্চশব্দে অ্যালার্ম বাজিয়ে বাসিন্দাদের ঘুম ভাঙিয়ে দিচ্ছে। এই গাড়িগুলো সেন্সর ও ক্যামেরার সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে পারলেও সম্প্রতি শোরডিচ এলাকার ‘এল্ডার স্ট্রিট’ নামের একটি ছোট মৃত গলি (ডেড-এন্ড) দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।
দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে জানা যায়, এল্ডার স্ট্রিট একটি ‘কাল-দ্য-স্যাক’ বা একমুখী সড়ক। সড়কটির অন্য প্রান্ত বন্ধ। সাধারণ যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে ওই রাস্তার মাথায় একটি ধাতব প্রতিবন্ধক (ব্যারিয়ার) বসানো রয়েছে। স্থানীয় চালকেরা বিষয়টি জানলেও ওয়েমোর গাড়িগুলো বারবার সেই ইটের তৈরি রাস্তা দিয়ে ঢুকে পড়ছে এবং ব্যারিয়ারের সামনে গিয়ে আটকে যাচ্ছে। রাস্তাটি এতটাই সরু যে সেখান থেকে গাড়ি ঘোরানো প্রায় অসম্ভব। ফলে গাড়িগুলোকে পুরো পথটি রিভার্স গিয়ারে বা উল্টো দিকে চালিয়ে বেরিয়ে আসতে হয়। আর এই সময় গাড়ি থেকে সাইরেনের মতো তীব্র শব্দে অ্যালার্ম বাজতে থাকে, যা স্থানীয়দের মতে সাধারণ হর্নের চেয়েও অনেক বেশি জোরালো।
পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে জেনি ব্ল্যাক নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা একটা গাড়ির চালকের মুখোমুখি হন। যদিও এই গাড়িগুলো ‘স্বয়ংক্রিয়’, তবে ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী পরীক্ষামূলক চলাচলের সময় নিরাপত্তার জন্য চালকের আসনে একজন মানব চালকের থাকা বাধ্যতামূলক। জেনি যখন চালককে জিজ্ঞেস করেন, কেন তিনি ‘নো-থ্রু রোড’ (সামনে যাতায়াতের পথ নেই) সাইনবোর্ড উপেক্ষা করলেন, তখন চালক জবাব দেন, গাড়িটিকে নিজে নিজে চলতে দিতে হবে যাতে ভুল করলে তিনি তা সংশোধন করে দিতে পারেন। জেনি যখন পাল্টা বলেন যে গাড়িটি তো পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে, তখন চালক স্রেফ জানান, এটি চাকরিতে তাঁর ‘প্রথম দিন’।
শব্দদূষণ এখন ওই এলাকার বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই এলাকাটি ঐতিহাসিকভাবে সংরক্ষিত (কনজারভেশন এরিয়া) হওয়ায় সেখানকার অনেক বাড়িতে আধুনিক ডাবল-গ্লেজড বা দ্বিমুখী কাঁচের জানালা ব্যবহারের অনুমতি নেই। ফলে ভোর চারটার সময় রিভার্স অ্যালার্মের সেই তীক্ষ্ণ শব্দ সরাসরি দেয়াল ভেদ করে ঘরে ঢুকে পড়ে এবং শিশুসহ পুরো পরিবারের ঘুম ভেঙে যায়।
ক্রিস লয়েড নামের এক বাসিন্দা একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে, উচ্চশব্দে অ্যালার্ম বাজিয়ে একটি গাড়ি ধীরগতিতে রাস্তা থেকে পেছনের দিকে বেরিয়ে আসছে। তাঁর প্রশ্ন, রাস্তার শুরু থেকেই যেখানে ব্যারিয়ার দেখা যাচ্ছে, সেখানে কেন গাড়িগুলোকে একদম শেষ মাথা পর্যন্ত যেতে হচ্ছে।
গত এপ্রিলে লন্ডনে সাদা রঙের জাগুয়ার এসইউভি গাড়ির বহর নিয়ে পরীক্ষা শুরু করে ওয়েমো। সরকারের নতুন নীতিমালা পাস হলে এ বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যের বাজারে নিজেদের প্রযুক্তি পুরোপুরি চালু করার লক্ষ্য রয়েছে কোম্পানিটির।
স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়েমো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘লন্ডনে পুরোদমে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি চলাচলের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আমরা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় আমাদের প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করছি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ওই নির্দিষ্ট রাস্তায় আপাতত আমাদের গাড়ি চলাচলের ক্ষমতা সীমিত করে দিয়েছি।’