হোম > প্রযুক্তি

কর্মক্ষেত্রে এআই হয়ে উঠছে ‘ডিজিটাল মাইক্রোম্যানেজার’

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

প্রতীকী ছবি। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে গত দুই বছরে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন ছিল—এ প্রযুক্তি কি মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে? তবে এখন সেই বিতর্কের পাশাপাশি নতুন এক উদ্বেগ সামনে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এআই হয়তো পুরোপুরি চাকরি কেড়ে নেবে না। তবে কর্মীদের ওপর এমনভাবে নজরদারি ও নির্দেশনা দেবে, যা কর্মপরিবেশকে আরও বেশি চাপপূর্ণ করে তুলতে পারে।

সম্প্রতি এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে কর্মীরা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন যেখানে তাদের এআই এজেন্টগুলো ক্রমাগত নির্দেশনা দেবে, কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং মাইক্রোম্যানেজমেন্ট করবে।

স্ট্যানফোর্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব বিজনেসে এক আলোচনায় তিনি বলেন, ‘আপনার এআই এজেন্টগুলো আপনাকে ক্রমাগত তাগাদা দেবে, মাইক্রোম্যানেজ করবে এবং আপনি আগের চেয়েও বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়বেন।’

যদিও মন্তব্যটি রসিকতার ছলে করা হয়েছিল, কিন্তু প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে এটি ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে একটি বাস্তব আশঙ্কার ইঙ্গিত বহন করে।

ফিউচার শিফট ল্যাবসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাগর বিষ্ণোই বলেন, অতিরিক্ত এআই-নির্ভর নোটিফিকেশন ও নির্দেশনা কর্মীদের মধ্যে ‘অ্যালার্ট ফ্যাটিগ’ বা অতিরিক্ত সতর্কবার্তার ফলে ক্লান্তি তৈরি করতে পারে।

তাঁর মতে, ‘এআই উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে, কিন্তু অতিরিক্ত নির্দেশনা এটিকে ডিজিটাল মাইক্রোম্যানেজারে পরিণত করতে পারে। প্রতিটি কাজের সঙ্গে যদি নতুন কোনো এআই পরামর্শ বা সতর্কতা যুক্ত হয়, তাহলে কর্মীরা স্বায়ত্তশাসন হারাতে পারেন এবং কর্মসন্তুষ্টি কমে যেতে পারে।’

বর্তমানে এআই প্রযুক্তি কোড লেখা, বৈঠকের সারসংক্ষেপ তৈরি, সময়সূচি ব্যবস্থাপনা, ইমেইল খসড়া প্রস্তুত এবং তথ্য বিশ্লেষণের মতো নানা কাজ করছে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই এসব প্রযুক্তিকে শুধু সহকারী হিসেবে নয়, কর্মীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও উৎপাদনশীলতা বিশ্লেষণের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করছে।

শর্টহিলস এআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পরমদীপ সিং বলেন, বর্তমানে অনেক কর্মী এআই কো-পাইলট ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলেও ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি অতিরিক্ত চাপের কারণ হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘মানব ব্যবস্থাপক দিনের শেষে ক্লান্ত হন এবং পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। কিন্তু এআই কো-পাইলট বা এজেন্ট কখনো ক্লান্ত হয় না।’

তাঁর মতে, কর্মক্ষেত্রের সফটওয়্যারে এআই আরও গভীরভাবে যুক্ত হলে উৎপাদনশীলতার রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ, ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং কর্মীদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ বৃদ্ধি পাবে।

এতে দক্ষতা বাড়লে কর্মীদের মানসিক চাপও বাড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন। ভবিষ্যতে কর্মীদের জন্য ‘রাইট টু ডিসকানেক্ট’ বা কর্মঘণ্টার বাইরে প্রযুক্তিগত যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার প্রয়োজন হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাহী নিয়োগ প্রতিষ্ঠান প্রো-এজ সার্ভিসেসের অংশীদার রাহুল আত্রির মতে, এআইভিত্তিক নজরদারি হয়তো স্বল্পমেয়াদে উৎপাদনশীলতা বাড়াবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কর্মীদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, ‘কিছু প্রতিষ্ঠান এআইকে কেবল দক্ষতা বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা উন্নয়নের জন্য এআইকে কাজে লাগাতে চায়।’

তাঁর ভাষায়, যেসব প্রতিষ্ঠান শুধু দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা এবং কম জনবল দিয়ে কাজ চালানোর দিকে নজর দিচ্ছে, সেখানে এআইয়ের আধিপত্য বেশি দেখা যাবে। কিন্তু যেসব প্রতিষ্ঠান ভালো সিদ্ধান্ত গ্রহণে এআইকে ব্যবহার করতে চায়, সেখানে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও ভারসাম্যপূর্ণ হবে।

এআই বিশেষজ্ঞ ড. শ্রীনিবাস পদ্মনাভুনি বলেন, কর্মীদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী পরিস্থিতি তখনই হবে যখন এআই ‘কো-পাইলট’ হিসেবে কাজ করবে, ‘ব্যাকসিট ড্রাইভার’ হিসেবে নয়।

এদিকে এআই নিয়ে আশাবাদী অবস্থান ধরে রেখেছেন জেনসেন হুয়াং। তিনি সম্প্রতি বলেছেন, এআই ব্যাপক হারে চাকরি কেড়ে নেবে—এ ধারণা সম্পূর্ণ অর্থহীন। তাঁর মতে, এআইয়ের কারণে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি প্রকৌশলী ও দক্ষ কর্মী নিয়োগ করবে।

অন্যদিকে, ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান এবং অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেইও সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলক আশাবাদী অবস্থান নিয়েছেন। আগে তাঁরা এআইয়ের কারণে বিপুলসংখ্যক চাকরি হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করলেও এখন বলছেন, প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।

তবে বাস্তবে প্রযুক্তি খাতে ছাঁটাই অব্যাহত রয়েছে। মেটা, অ্যামাজন ও লিংকডইনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এআইভিত্তিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে কর্মী ছাঁটাই করেছে। সম্প্রতি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্ল্যাটফর্ম গিটল্যাবও তাদের প্রায় ১৪ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।

পরমদীপ সিংয়ের মতে, চাকরি নিয়ে বিতর্কের উভয় পক্ষই শেষ পর্যন্ত আংশিকভাবে সঠিক প্রমাণিত হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদে এআই অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করবে এবং অনেকেই চাকরি হারাবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে নতুন ধরনের কাজ সৃষ্টি হবে। এ জন্য কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জন এবং এআই ব্যবহারে পারদর্শী হতে হবে।’

তবে ভবিষ্যতের বড় প্রশ্ন শুধু চাকরি থাকবে কি না, তা নয়। বরং কর্মীরা এমন এক কর্মপরিবেশে কাজ করবেন, যেখানে এআই তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করবে। আর এই ভারসাম্য রক্ষা করাই হতে পারে আগামী দিনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্বব্যাপী হোয়াটসঅ্যাপে চালু হচ্ছে মেটার ‘এআই বিজনেস’, ব্যবহারে লাগবে ফি

ঢাকায় ২৩ জুন শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী ‘ফিনিক্স সামিট–২০২৬’

এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ৮০ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রি করছে অ্যালফাবেট

আফ্রিকার ঐতিহ্য ‘অমর’ করে রাখতে চান এক নাইজেরিয়ান শিল্পী

মেটা নিয়ে আসছে সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান

ফোন চার্জে দিলেই গরম হওয়ার কারণ ও করণীয়

নিউ গ্লেন বিস্ফোরণে যে সংকটে ব্লু অরিজিন

১৬ বছর পূর্ণ না হলে অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে না মালয়েশিয়ায়

নতুন যুগান্তকারী চিপ আনল এনভিডিয়া, ব্যক্তিগত কম্পিউটারেই চলবে এআই

দর্শকদের ক্যামেরায় নারী অ্যাথলেটদের আপত্তিকর ছবি, চীন-জাপানে তুমুল বিতর্ক