কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আমাদের জীবনযাত্রা সহজ ও আধুনিক করেছে। উল্টো দিকে সাইবার অপরাধী ও প্রতারকদের হাতে তুলে দিয়েছে এক নতুন ও শক্তিশালী হাতিয়ার। বানান বা ব্যাকরণের ভুল দেখে ভুয়া মেসেজ বা প্রতারণামূলক ওয়েবসাইট চেনার পুরোনো দিন এখন শেষ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে তৈরি করা নিখুঁত ও স্পর্শকাতর ফাঁদে পা দিয়ে প্রতিদিন সর্বস্ব হারাচ্ছেন হাজারো সাধারণ মানুষ।
সংগঠিত অপরাধীরা আজকাল এআই প্রযুক্তির ব্যবহারে এমনভাবে জাল বুনছে, যা খালি চোখে বা সাধারণ সতর্কতায় ধরা কঠিন।
জাল ওয়েবসাইট ও ফেক ব্র্যান্ড: এআই দিয়ে চোখের পলকে অত্যন্ত পেশাদার ও আকর্ষণীয় অনলাইন শপের ওয়েবসাইট বানিয়ে ফেলা হচ্ছে। ইউকে হাই স্ট্রিট বা ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক ব্যবসার ছবি ব্যবহার করে আসল ভেবে কেনাকাটার ফাঁদে ফেলা হয়, কিন্তু দিন শেষে পণ্য আর পৌঁছায় না।
ভয়েস ক্লোনিং ও ডিপফেক: প্রিয়জন বা পরিবারের কেউ বিপদে পড়েছে দাবি করে হুবহু তাঁর কণ্ঠস্বর ক্লোন করে বা ডিপফেক ভিডিও কলের মাধ্যমে জরুরি টাকার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে এখন।
এআই রোমান্স স্ক্যাম: ডেটিং প্ল্যাটফর্ম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় এআই দিয়ে নিখুঁত সঙ্গীর ফেক প্রোফাইল তৈরি করা হয়। ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ মনে রেখে মাসের পর মাস কথা চালিয়ে সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে টাকা বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা করা হয়।
অটোমেটেড অ্যাটাক ও ফিনফ্লুয়েন্সার: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথাকথিত আর্থিক পরামর্শদাতারা এআই দিয়ে লাখ লাখ ভুয়া ফলোয়ার ও ক্রেডেনশিয়াল তৈরি করে সাধারণ মানুষকে অনিরাপদ তহবিলে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করছে। অন্যদিকে এআই-চালিত ম্যালওয়্যার অ্যান্টিভাইরাস বাইপাস করে হাতিয়ে নিচ্ছে পাসওয়ার্ড ও ব্যাংকের তথ্য।
এআই স্ক্যাম বা ডিজিটাল জালিয়াতির শিকার হলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের সাইবার অপরাধ বিভাগ বা নির্দিষ্ট হেল্পলাইনে অভিযোগ জানানো উচিত। সতর্কতাই এআই যুগের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। এআই প্রযুক্তি যতই শক্তিশালী হোক না কেন, কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে এই ফাঁদ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
জরুরি পাসওয়ার্ড তৈরি রাখুন। ভয়েস ক্লোনিং প্রতারণা এড়াতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এমন একটি গোপন পাসওয়ার্ড বা কোড নির্ধারণ করে রাখুন, যা কেবল আপনারাই জানেন।
ছবি ও কণ্ঠস্বরে অন্ধবিশ্বাস করবেন না। অডিও বা ভিডিও কলে পরিচিত কারও কণ্ঠ শুনলে বা মুখ দেখলে সরাসরি বিশ্বাস না করে নিজে থেকে পুরোনো নম্বরে ফোন করে সত্যতা যাচাই করুন।
অনলাইনে অনুসন্ধানী হোন। কোনো নতুন অনলাইন শপে কেনাকাটার আগে বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগের আগে তাদের ভৌত ঠিকানা ও অনুমোদন রয়েছে কি না যাচাই করুন। কখনো না দেখা কারও কাছে উপহার কার্ড, টাকা বা গোপন তথ্য পাঠাবেন না।
যেকোনো অবস্থাতে হুটহাট সিদ্ধান্ত নেবেন না। স্ক্যামাররা সব সময় একটি কৃত্রিম তাগাদা বা ভয় তৈরি করে যেন আপনি চিন্তা করার সময় না পান। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে থামুন, শান্ত হোন এবং যাচাই করে নিন।
সূত্র: বিবিসি