অস্ত্রোপচার ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে ইঁদুরের মস্তিষ্ক পর্যবেক্ষণের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। এতে মাথার ত্বক ও খুলি অক্ষত রেখেই মগজের উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি ধারণ করা সম্ভব। ‘চায়না সায়েন্স ডেইলি’ এ তথ্য জানায়। গবেষণার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ সাময়িকীতে।
দীর্ঘমেয়াদি নন-ইনভেসিভ বা নিরাপদ ব্রেইন ইমেজিং মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালি বোঝা এবং বিভিন্ন স্নায়ুরোগের কারণ অনুসন্ধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ইঁদুরের মাথার ত্বক ও খুলির কারণে আলো বিচ্ছুরণ ও শব্দ তরঙ্গের দুর্বলতার মতো জটিলতা থাকায় এ ধরনের ইমেজিং করা কঠিন ছিল।
চীনের শেনচেনের সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকেরা প্যাকমেস নামে একটি সমন্বিত ফটো অ্যাকুস্টিক ইমেজিং সিস্টেম তৈরি করেছেন। এতে নিকট-ইনফ্রারেড আলোক উত্তেজনা, নিম্ন ফ্রিকোয়েন্সি শব্দ শনাক্তকরণ এবং কম্পিউটেশনাল পুনর্গঠনের প্রযুক্তি একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে।
এতে ত্বক ও খুলি ভেদ করে কার্যকরভাবে সংকেত পাওয়া যায়, আলোর বিচ্ছুরণজনিত সমস্যা কমে এবং উচ্চ সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিভিন্ন কোণ থেকে সংকেত শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
নতুন প্রযুক্তির একটি বড় সুবিধা হলো, এতে কোনো বাহ্যিক কনট্রাস্ট এজেন্ট ব্যবহার করতে হয় না। এটি প্রায় ১৩ মিলিমিটার ব্যাসের এলাকা স্ক্যান করতে পারে, যা ইঁদুরের পুরো সেরিব্রাল কর্টেস্কের ছবি তুলতে পারে।
ইস্কেমিক স্ট্রোকের একটি ইঁদুরের ওপর পরীক্ষার সময় এই সিস্টেম পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে রক্তনালির পরিবর্তনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছে। স্ট্রোকের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আক্রান্ত স্থানে নতুন সহায়ক রক্তনালি গঠনের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াও এতে ধরা পড়ে, যা স্ট্রোক-পরবর্তী রক্তনালি মেরামতের ধারণা বুঝতে সাহায্য করেছে গবেষকদের।
গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি আলঝেইমার, মৃগীসহ বিভিন্ন সেরিব্রোভাসকুলার রোগ নিয়ে গবেষণা এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি মূল্যায়নের প্ল্যাটফর্মও হতে পারে।
তথ্যসূত্র: চায়না ডেইলি, সিএমজি