কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামী সাত বছরে ১১০ বিলিয়ন বা ১১ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বিশাল বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ভারতের রিলায়েন্স গ্রুপ। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। গ্রুপটির কর্ণধার মুকেশ আম্বানি এটিকে ‘জাতি-নির্মাণমূলক মূলধন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
আম্বানি জানিয়েছেন, রিলায়েন্স এবং তাদের টেলিকম ইউনিট জিও এই বিনিয়োগ চলতি বছর থেকেই শুরু করে আগামী সাত বছরে বাস্তবায়ন করবে। তিনি বলেন, ভারত বুদ্ধিমত্তা ভাড়া নিতে পারে না।
আম্বানি আরও জানান, গুজরাটের জামনগরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাঁচা তেল রিফাইনারির পাশেই একটি মাল্টি-গিগাওয়াট এআই-রেডি ডেটা-সেন্টার পার্ক নির্মাণ করছে রিলায়েন্স। সেই সঙ্গে সেখানে রয়েছে আম্বানি পুত্রের পরিচালিত বিশাল চিড়িয়াখানা। রিলায়েন্সের ১০ গিগাওয়াট শক্তি উৎপাদনের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেছেন আম্বানি, যার মধ্যে গুজরাট ও অন্ধ্র প্রদেশের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত।
আম্বানি বিনিয়োগের বিস্তারিত বিবরণ দেননি, তবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রিলায়েন্স ডেটার খরচের মতোই বুদ্ধিমত্তার খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে।
বিশ্ব নেতারা যখন এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশ নিচ্ছেন, তখন মার্কিন ও ভারতীয় কোম্পানিগুলোও বড় বড় চুক্তি ও বিনিয়োগের ঘোষণা করছে।
আম্বানি বলেন, এটি কোনো জল্পনামূলক উদ্যোগ নয়। এটি ধৈর্যশীল, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং জাতি-নির্মাণমূলক মূলধন, যা দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিক মূল্য ও কৌশলগত স্থিতিশীলতা তৈরি করবে।
এর আগে আদানি গ্রুপ মঙ্গলবার ঘোষণা করেছিল যে তারা ২০৩৫ সালের মধ্যে হাইপারস্কেল এআই-রেডি ডেটা-সেন্টার তৈরিতে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এটি ভারতের গ্লোবাল এআই হাব হিসেবে আবির্ভাবকে আরও শক্তিশালী করবে।
এশিয়ার শীর্ষ ধনী আম্বানি বলেন, এআইয়ের কেন্দ্রবিন্দু এখন আর কে সেরা মডেল তৈরি করছে তার ওপর নয়, বরং কে সবচেয়ে শক্তিশালী ইকোসিস্টেম তৈরি করতে পারছে তার ওপর। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, রিলায়েন্স উৎপাদন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবাসহ ভারতের অর্থনীতির প্রতিটি খাতে এআই অন্তর্ভুক্ত করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এআই চাকরি কেড়ে নেবে না; বরং নতুন উচ্চ-দক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।