জাতীয় ফুটবল দলে ঢোকার দরজা সাবিনা খাতুনের জন্য আপাতত বন্ধই রয়েছে। ২০২৪ সালে তাঁর নেতৃত্বে সাফ জিতেছিল বাংলাদেশ। সেটাই হয়ে থাকে অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের শেষ ম্যাচ। কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ডাক দেওয়ার পর জাতীয় দলে আর ডাক পাননি তিনি।
ফুটবল এখনো ছাড়েননি সাবিনা। ফুটসালের অধিনায়ক হয়ে আজ দীর্ঘদিন পর এলেন সংবাদ সম্মেলনে। তাঁর নেতৃত্বে থাইল্যান্ডে ১৩-২৫ জানুয়ারি সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ। তবে কি ফুটসালেই এখন থেকে মনোনিবেশ থাকবে সাবিনার। উত্তরটা ‘না’ জানালেন তিনি। বরং কখন ক্যারিয়ার ছাড়বেন সেটা একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
বাফুফে ভবনে সাবিনা বলেন, ‘কবে ফুটসাল বা ফুটবল ছাড়ব সেটা হচ্ছে আমি ঠিক করব। আমি যে ফুটসালের প্রতি নিবেদিত এরকমও কিছু না। যেহেতু খেলেছি আগে, অভিজ্ঞতা আছে, তাতে যদি বাকি মেয়েদেরকে সহায়তা করতে পারি তাহলে কেন যাব না? তাই এটা মনে করার কিছু নেই— সাবিনা ফুটবল খেলবে না, ফুটসালেই থাকবে।’
ফুটবলের সাফে বাংলাদেশকে দুবার চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন সাবিনা। ফুটসালেও কি একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হবে? উত্তরে সাবিনা সামনে আনলেন বাস্তবতা। দেড় মাসের অনুশীলনে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বড় স্বপ্ন না দেখলেও ভালো কিছু করার আশা দিচ্ছেন তিনি।
সাবিনা বলেন, ‘রেজাল্ট তো আসলে এখনই বলতে পারব না। কারণ আসলে কোনো টিমের সম্পর্কে আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে মালদ্বীপ এগিয়ে থাকবে। ভারত বেশ কিছু বাছাইপর্ব খেলেছে ফুটসালে, তারা সবসময় শক্তিশালী হয়। বাকি দলগুলো যারা আছে তারা আমাদের মতোই নতুন। সেই জায়গা থেকে আমরা ভালো কিছু করব।’
সাবিনা বাদে দলের অন্যান্য ফুটবলারদের ফুটসালে তেমন কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তাই কোচ সাইদ খোদারাহমিকে বেশ কাঠখড় পোহাতে হয় অনুশীলনের সময়। ইরানি কোচ বলেন, ‘আমাদের কোনো বিশেষ নারী ফুটসাল খেলোয়াড় নেই, সবাই ফুটবলার। তারা ফুটসালের নিয়মকানুনগুলো জানে না, যা আমার সহকারীদের জন্য শেখানো বেশ কঠিন হচ্ছে। বর্তমানে আমরা তাদের নিয়ম এবং ফুটসালের খুঁটিনাটি শেখাচ্ছি।’
নারীদের পাশাপাশি পুরুষদের সাফও একই সময়ে একই ভেন্যুতে হচ্ছে। তাই বাংলাদেশের দুই দল টুর্নামেন্ট খেলতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দেবে কাল।