দুয়ারে কড়া নাড়ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ৮ বছর পর টুর্নামেন্টের স্বাগতিক বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে শিরোপাও ঘরেই রাখার স্বপ্ন টমাস ডুলির দলে। কিন্তু এর আগে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চিন্তা গোল করা নিয়ে। দলে স্বীকৃত স্ট্রাইকারের ঘাটতি, আক্রমণভাগে নেই নির্ভরযোগ্য গোলদাতা। অথচ শিরোপার পথে জয়ের বিকল্প নেই, আর জয় পেতে চাই গোল। সাফে যৌথভাবে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৫ গোল করা সাবেক দুই ফুটবলার রোকনুজ্জামান কাঞ্চন ও জাহিদ হাসান এমিলির চোখে এর সমাধান তুলে ধরা হলো—
রোকনুজ্জামান কাঞ্চন
২০০৩ সালে আমরা যখন সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম, তখন আমাদের দলে গোল করার মতো একাধিক খেলোয়াড় ছিল। আলফাজ ভাইয়ের সঙ্গে আমার জুটিটাও ছিল দারুণ। আমাদের খেলার ধরন ছিল আলাদা। আলফাজ ভাই ছিলেন স্কিলনির্ভর খেলোয়াড়, আর আমি ছিলাম রানিং প্লেয়ার। আমি দৌড়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতাম, আলফাজ ভাই নিজের দক্ষতা ও টেকনিক দিয়ে খেলতেন। এই পার্থক্যই মাঠে আমাদের বোঝাপড়া সহজ করেছিল। ২০০৩ সালের সাফে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে গোল করেছি, এমনকি মালদ্বীপের বিপক্ষে ফাইনালেও প্রথম গোলটি আমার।
আমার কাছে গত ২৩ বছরে সাফের শিরোপা না জেতার পেছনে খেলোয়াড়দের দায় নেই। মূল সমস্যা পরিকল্পনার অভাব। আমাদের দেশে কি প্রতিভাবান ফুটবলারের অভাব? দেশের ৬৪ জেলা থেকে জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড়দের মাধ্যমে প্রতিভা খুঁজে বের করা যেতে পারে। প্রতিটি জেলা থেকে ১০ জন করে খেলোয়াড় বাছাই করলেও অনেক বড় একটি দল পাওয়া সম্ভব। তাদের একাডেমিতে রেখে প্রশিক্ষণ দিলে সেখান থেকে ভালো স্ট্রাইকার বেরিয়ে আসবে না, এমনটা আমি বিশ্বাস করি না।
ফুটবল ফেডারেশনের কাজই হলো দেশের ফুটবলের উন্নয়ন করা। ব্যক্তিস্বার্থ কিংবা রাজনীতির চেয়ে ফুটবলকে প্রাধান্য দিতে হবে। শুধু খেলোয়াড়দের কাছ থেকে গোল আশা করলে হবে না, গোল করার মতো খেলোয়াড়ও তৈরি করতে হবে।
এবার সাফে আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। তবে আবেগ দিয়ে হবে না, স্ট্রাইকারদের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। হামজা আছেন বলেই আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাব, এমন ভাবারও কারণ নেই। অন্য দেশগুলো অনেক এগিয়েছে। তবে আমি মনেপ্রাণে চাচ্ছি সাফ পুনরুদ্ধার হোক।
জাহিদ হাসান এমিলি
স্বাগতিক হিসেবে সাফ জিততে হলে গোল করতে হবে। ২০০৩ ও ২০১০ সালে আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। ২০০৩ সালের সাফে আমাদের দল আটটি গোল করেছিল। আলফাজ ভাই, কাঞ্চন ভাইরা গোল করেছিলেন। ২০১০ এসএ গেমসে সব মিলিয়ে আমরা ১৩টি গোল করেছিলাম—এনামুল হক, মিঠুন চৌধুরী, তৌহিদুল আলম সবুজ; আমরা সবাই স্ট্রাইকার হিসেবে গোল করেছিলাম।
সাফ জিততে হলে স্ট্রাইকারদের গোল করার বিকল্প নেই। আমাদের বর্তমান দলে যেহেতু স্বীকৃত স্ট্রাইকারের ঘাটতি আছে, তাই পেছন থেকে এসে কেউ গোল করতে পারলে, এমনকি সেন্টারব্যাক তপু বর্মনও যদি গোল করে অবদান রাখতে পারে, সেটিও দলের জন্য বড় পাওয়া হবে। তবে জিততে হলে গোল করতেই হবে। আর গোল করার জায়গাটিতেই আমাদের দলের বড় ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশ দল কোনো না কোনোভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে।
আমার মনে হয়, যারা গোল করতে পারে, তাদের সামনের দিকে সুযোগ দেওয়া উচিত। রোনান সুলিভানের না থাকাটাও বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা। এই টুর্নামেন্টে অনেক গোলের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে দুই প্রান্ত থেকে প্রচুর ক্রস আসবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেগুলোকে গোলে পরিণত করবে কে?
শেখ মোরসালিন ও রাকিব হোসেন ভালো খেলোয়াড়, কিন্তু তারা কেউই স্বাভাবিক অর্থে স্বীকৃত স্ট্রাইকার নয়। ফলে এখনো দলে প্রকৃত স্ট্রাইকারের ঘাটতি আছে। একমাত্র মাহি খান আছে, তবে সে কতটা ম্যাচের চাপ সামলে দায়িত্ব পালন করতে পারবে, তা সময়ই বলে দেবে।