হোম > খেলা > সাক্ষাৎকার
রাসেল মাহমুদ জিমির সাক্ষাৎকার

‘এমনটা যেন কারও সঙ্গে না হয়’

বয়সের অজুহাতে দীর্ঘ ১৭ মাস জাতীয় দলের বাইরে রাখা হয়েছিল ৩৯ বছর বয়সী রাসেল মাহমুদ জিমিকে। আবারও চেনা আঙিনায় ফিরেছেন অভিজ্ঞ এই হকি ফরোয়ার্ড। জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ডের অধীনে এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি ক্যাম্পে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। আজকের পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেসব নিয়ে কথা বলেছেন জিমি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনোয়ার সোহাগ

আনোয়ার সোহাগ, ঢাকা

রাসেল মাহমুদ জিমি। ছবি: ফাইল ছবি

প্রশ্ন: দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরলেন। বয়সের অজুহাতে বাদ পড়ার সময়টা কীভাবে পার করেছেন?

রাসেল মাহমুদ জিমি: ২০০৩ সালে যখন শুরু করি, তখন একটা কথা ছিল যে আমার বাবা কোচ, তাই আমি দলে সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু এরপর লম্বা সময় এটা বলার সুযোগ কাউকে দিইনি। গত বছর আমার সঙ্গে যেটা হয়েছে, দোয়া করি, কারও সঙ্গে যেন এ রকম না হয়। বয়সের অজুহাতে কখনো খেলোয়াড়কে বিচার করা যায় না। তারা কেন এমন করেছে, তারাই বলতে পারবে। বিশ্বের কোথাও এমন নিয়ম নেই। একজন খেলোয়াড় পারফর্ম করে দলে ঢুকবে, ভালো না করলে বাদ পড়বে; বয়সের কারণে এ রকম কখনো হয় না।

এই সময়টা আমার জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল। এই কমিটি এসেছে, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া এবং তাদের ধন্যবাদ যে আমাকে একটি সুযোগ করে দিয়েছে। বাকিটা আমার পারফরম্যান্স এবং কোচের ওপর নির্ভর করছে। কোচ যদি মনে করেন, আমি তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী ফিট এবং খেলতে পারব, তাহলে আশা রাখি, এশিয়ান গেমসে খেলার সুযোগ হবে।

প্রশ্ন: ওই সময়টায় মানসিকভাবে নিজেকে কীভাবে শক্ত রেখেছিলেন?

জিমি: জীবনে আমি অনেক কিছু ফেস করেছি। আমি চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। নিজেকে পরবর্তী সময়ের জন্য তৈরি করেছি যে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সুযোগ এলে কাজে লাগাব। আরেকটা আক্ষেপ ছিল যে আমার আরও একটা এশিয়া কাপ মিস হয়ে গেল। খেলতে পারলে ৭টা এশিয়া কাপ হতো। এএইচএফ কাপ, এশিয়ান গেমস কোয়ালিফায়ার, পাকিস্তান সিরিজ মিস করেছি। এগুলো খেললে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা আরও বাড়ত। এখন আমার ১৯৪টি ম্যাচ। এশিয়ান গেমস খেলতে পারলে ২০০ ম্যাচ হবে। ওই ম্যাচগুলো খেললে অর্জনের খাতা আরও বড় হতো। আমি মনে করি, এটা একজন প্লেয়ারের প্রতি ইনজাস্টিস (অন্যায়) করা হয়েছে।

প্রশ্ন: আপনি চারিত্রিকভাবে স্পষ্টবাদী। গত কমিটি বয়সের কারণ দেখিয়ে যা করেছে, তাতে আপনার ভেতরে কেমন প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল?

জিমি: আমার চেয়ে আপনারা সাংবাদিকেরা এবং সিনিয়ররা বেশি প্রতিবাদ করেছেন। তার মানে, এটা ভুল ছিল। আমি সঠিক পথে ছিলাম, আমার পারফরম্যান্স ছিল। মিডিয়ায় তারা কখনো বলেনি, আমার খেলা খারাপ, বলেছে বয়স নিয়ে। তার মানে, তারাই স্বীকার করছে যে আমি এখনো খেলতে পারি! পার্সোনাল কোনো ক্ষোভ থেকে তারা এটা করেছে কি না, তারাই বিশ্লেষণ করতে পারবে। তবে আমি চাই, অন্য কারও সঙ্গে যেন এমন না হয়। পারফর্ম না করতে পারলে প্লেয়ার নিজেই তা বুঝতে পারে।

দেড় বছর পর জাতীয় দলে সুযোগ পেলেন রাসেল মাহমুদ জিমি। ছবি: ফাইল ছবি

প্রশ্ন: লম্বা সময় পর ক্যাম্পে ফিরে মানিয়ে নেওয়া কতটা কঠিন ছিল?

জিমি: আমি আসায় তারা আমাকে খুব সাপোর্ট করছে, খুশি হয়েছে। তারা আমাকে ফিল করেছে—ফরওয়ার্ডে আমার অনুপস্থিতি তারা মিস করেছে। অনেক প্লেয়ার বলেছে, তারা আগে মুখ খুলে বলতে পারেনি, এখন বলতে পারছে। মাঠে একজন খেলোয়াড় যখন আরেকজন খেলোয়াড়কে মিস করে, সেটা আমাকে অর্জন করে নিতে হয়েছে।

প্রশ্ন: পিটার গেরহার্ডকে আবারও ফিরে পেলেন। নিজের ভূমিকা কী হবে, নিশ্চয় আন্দাজ করতে পেরেছেন?

জিমি: মাত্র তিন দিন হলো এসেছি। তাঁর (কোচ) প্ল্যান ফলো করছি, তিনি যেভাবে বলছেন, সেভাবে খেলার চেষ্টা করছি। বাকিটা তাঁর ওপর নির্ভর করছে, কীভাবে আমাকে আরও ডেভেলপ করবেন। তিনি আমাদের চেনেন, আমার সম্পর্কে জানেন। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি লম্বা সময় আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। হুট করে নতুন কারও হাতে দায়িত্ব দিলে বুঝতে বুঝতেই সময় চলে যায়। তাঁর অধীনেই খেলোয়াড়েরা জার্মান লিগে খেলতে গেছে। কোচ যদি দলকে চেনেন, তবে উন্নতি দ্রুত হয়। আমাদের হাতে এখনো এক মাস সময় আছে। সব ঠিক থাকলে দল জার্মানিতে ম্যাচ খেলতে যাবে, সেখানে আমাদের সঙ্গে আরও দুজন অভিজ্ঞ প্লেয়ার ও কোচ যোগ দেবেন। এই পরিকল্পনা লম্বা সময় থাকলে দল ভালো পজিশনে যাবে।

প্রশ্ন: মাঠ থেকে অবসর নিতে চেয়েছিলেন, আর সামনে ২০০ ম্যাচের একটি মাইলফলকও আছে। এ নিয়ে কী ভাবনা কাজ করছে?

জিমি: চেষ্টা করব শতভাগ। সিলেকশন নির্ভর করে কোচের ওপর। যেহেতু চার বছর পরপর এশিয়ান গেমস হয়, তাই এটা (সেপ্টেম্বরে) হয়তো আমার শেষ এশিয়ান গেমস হতে যাচ্ছে। সবাই চায় একটা সুন্দর বিদায়। এখন দোয়া করেন, যেন এশিয়ান গেমসটা ভালোমতো খেলতে পারি। আপনারা আমার জন্য ফাইট করেছেন, সুযোগ এসেছে, বাকিটা মাঠে প্রমাণ করার চেষ্টা করব।

‘ভালো না খেললে দলে জায়গা থাকবে না’

‘বাংলাদেশ সমর্থকদের দেশ, ফুটবলার তৈরির নয়’

বাংলাদেশকে যেন সাফের ট্রফি উপহার দিতে পারি

‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলা সবচেয়ে বড় অর্জন’

প্রবাসী খেলোয়াড়দের স্থানীয়দের চেয়ে ভালো হতে হবে

যেকোনো দলের সঙ্গেই চোখে চোখ রেখে লড়তে পারব

নতুন চ্যালেঞ্জ নিতেই মোহামেডানে এসেছেন জিকো

‘এই দল সেরা ছয়ের মধ্যে থাকবে’

‘আমাদের খেলার ধরনে আমরাই সেরা’

‘অস্ট্রেলিয়ায় আমরা জিততে পারব না, বিষয়টা তেমন না’