আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার তো শেষ নেই। লিওনেল স্কালোনির দলের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের চেয়ে বরং রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান এবং তারকা ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো। এবার আফ্রিকা মহাদেশের দলটির কোচ-ফরোয়ার্ডের বিপক্ষে ব্যবস্থা নিচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা।
হোসাম হাসানের যমজ ভাই ইব্রাহিম হাসান এবং তারকা ফরোয়ার্ড জিকোর বিরুদ্ধে ফিফা শাস্তিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে বলে মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। এই হোসামের যমজ ভাই ইব্রাহিম মিসরের সহকারী কোচ। পাল্টা জবাবে ইএফএ বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন (ফিফা) কর্তৃক মিসর জাতীয় দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসান, দলের ম্যানেজার ইব্রাহিম হাসান এবং খেলোয়াড় মোস্তফা জিকোর বিরুদ্ধে শুরু করা শাস্তিমূলক কার্যক্রমের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ শেষে তাঁদের দেওয়া বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’
আটলান্টায় ৭ জুলাই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোতে মিসরের জয় এক রকম নিশ্চিত ছিল। ৭৯ মিনিট পর্যন্ত মিসর ২-০ গোলে এগিয়ে থাকায় তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু শেষ ১৪ মিনিটেই বদলে যায় হিসাবনিকাশ। অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ৩-২ গোলে জিতেছিল আলবিসেলেস্তেরা।
আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে তোপের মুখে পড়েন। তাঁর ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন মিসরের কোচ হোসাম ও জিকো। বিশেষ করে, জিকো বেশি ক্ষুব্ধ ছিলেন। কারণ, তিনি একটি গোলের পর উদযাপনও করেছিলেন। কিন্তু রেফারি ফাউলের কারণে সেই গোল বাতিল করে দিয়েছিল।
এমনকি শেষ ষোলোর ম্যাচ শেষে হোসামের সঙ্গে স্কালোনিরও লেগে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছিল। এ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে লেতেক্সিয়ের ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন নেটিজেনরা। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছিলেন তিনি। এমনকি মিসরীয়রা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে চাঞ্চল্যকর ই-মেইল পাঠিয়েছিল বলে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল।
আর্জেন্টিনা ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপেও ফাইনালে উঠেছিল। তবে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিততে পারেনি। নিউজার্সিতে ১৯ জুলাই ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় স্কালোনির দল। এই জয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। এর আগে ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডসকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্প্যানিশরা।