বয়স ৩৮। সাধারণ ফুটবলারদের জন্য এই বয়সে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলার কথা ভাবাই কঠিন। কিন্তু লিওনেল মেসি শুধু খেলছেনই না, ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রেখেই রচনা করলেন এক নতুন মহাকাব্য। কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে তাঁর জাদুকরী হ্যাটট্রিকের ওপর ভর করে আর্জেন্টিনা পেয়েছে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়। আর এই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের পর, দলের কোচ লিওনেল স্কালোনিও যেন কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না এই ফুটবল জাদুকরের প্রশংসা করার।
ম্যাচ শেষে মুগ্ধ স্কালোনি অকপটে স্বীকার করেন, ‘মেসিকে বর্ণনা করার মতো ভাষা আমার জানা নেই। আমি আর কী-ই বা বলতে পারি? সে স্রেফ অবিশ্বাস্য।’
২০০৬ থেকে ২০২৬— ২০ বছরে টানা ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেছেন মেসি। কিন্তু পারফরম্যান্স নিয়ে মুগ্ধতার আর শেষ কোথায়। বয়স হয়েছে? অলস হয়ে গেছেন? ২০২২ সালে স্বপ্নের চূড়ায় পৌঁছে এবার কি তবে আত্মতৃপ্তিতে ভুগছেন? একদমই না, সেই কথা বলারও সুযোগ নেই।
তাই তো স্কালোনি বলেন, ‘সে গত ২০ বছর ধরে এমনটাই করে আসছে। ফুটবলপ্রেমী প্রত্যেকেই তাকে মাঠে দেখতে চায় এবং তার খেলা উপভোগ করে।’
আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ আসরে এসে প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন মেসি। একইসঙ্গে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। কিন্তু কোচের কথা আর মাঠের পারফরম্যান্স মিলিয়ে এটা স্পষ্ট, রেকর্ডের চেয়েও মেসির এই চিরন্তন ফুটবল জাদুই এই বিশ্বকাপকে আবারও আলোকিত করে তুলবে।
কেবল হ্যাটট্রিক ও ব্যক্তিগত রেকর্ডের জন্য নয়, মেসির লড়াকু মানসিকতাকেই দলের মূল শক্তি হিসেবে দেখছেন স্কালোনি, ‘সে মাঠের একটা বলের আশাও সহজে ছেড়ে দেয় না, এটাই আমাদের খেলার ধরন। এই ম্যাচ থেকে জয় বাদেও মেসির এই লড়াকু মনোভাবই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
সাড়ে তিন বছর আগে আর্জেন্টিনার কাতার বিশ্বকাপ জয়ের শুরুটা ছিল বিবর্ণ। এবার আর তেমন কিছু চাননি স্কালোনি, ‘প্রথম ম্যাচ সবসময়ই বেশ জটিল হয়। গত বিশ্বকাপে আমরা শুরুতেই হোঁচট খেয়েছিলাম, তাই আজ আমাদের একটি ভালো সূচনা প্রয়োজন ছিল।’