আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের চলছে স্বর্ণযুগ। শিরোপা জেতা যেন এখন তাদের কাছে সবচেয়ে সহজ কাজ। একটা সময় যে দলটির দীর্ঘ শিরোপাখরা ছিল, তারা এখন উড়ছে। দলের এমন সাফল্যে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস।
২০২১ কোপা আমেরিকা দিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছরের শিরোপাখরা কাটায় আর্জেন্টিনা। তারপর থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়া এক রকম অভ্যাসে পরিণত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা জিতেছে আর্জেন্টিনা। আকাশী-নীলদের সবশেষ এই চার শিরোপা জয় মাঠ থেকে উদযাপন করেছেন এমি মার্তিনেস।
নিউজার্সিতে আগামীকাল ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-স্পেন। এই ম্যাচের আগে আজ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দলের ধারাবাহিক সফলতার কথা উল্লেখ করেছেন মার্তিনেস। আর্জেন্টিনার তারকা গোলরক্ষক বলেন, ‘এই দলটির সঙ্গে আমরা বছরের পর বছর ধরে উন্নতি করে চলেছি। যা অর্জন করেছি, কখনো কখনো সেটা ভেবে চোখে পানি চলে আসে। সামনে আরও আনন্দের মুহূর্ত আসবে। সেগুলো উপভোগ করার অপেক্ষায় আছি।’
ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়িয়েছে—এমি মার্তিনেসকে ডাকুন। ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপে পেনাল্টি শুটআউটে প্রতিপক্ষের অনেক গোল প্রতিহত করেছেন তিনি। এ ছাড়া মূল ম্যাচেও আর্জেন্টিনার গোলপোস্ট দারুণভাবে সামলেছেন মার্তিনেস। গত বিশ্বকাপের ফাইনালের কথাই চিন্তা করুন। লুসাইলে অন্তিম মুহূর্তে ফ্রান্সের রান্দাল কোলো মুয়ানির নিশ্চিত গোল দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করেছেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।
এবারের বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনা দুই ম্যাচ ক্লিনশিট ধরে রেখেছে। বাকি পাঁচ ম্যাচে লিওনেল স্কালোনির দল হজম করেছে ৭ গোল। ম্যাচে যে মুহূর্তই আসুক, তাতে চাপ অনুভব করেন না মার্তিনেস। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের আগে সংবাদমাধ্যমকে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক বলেন, ‘‘প্রতিপক্ষ আমার বিপক্ষে এক বা দুই গোল করতেই পারে। কিন্তু পরের মুহূর্তেই আমি আবার সেই একই ‘দিবু’। চাপ আমাকে প্রভাবিত করতে পারে না। শুধু গ্লাভস পরে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখি। ম্যাচ যেমনই হোক না কেন, আমার মধ্যে সেই পাড়ার ছেলেটার লড়াকু মানসিকতা আছে।’
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার গোল ১৯। ফাইনালে চার গোল করলে লিওনেল স্কালোনির দলের গোল হবে ২৩। তাতে করে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় আর্জেন্টিনা যৌথভাবে ফ্রান্সের পাশে বসবে। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্স করেছিল ২৩ গোল। আর ১৯৫০ ও ১৯৭০ বিশ্বকাপে ব্রাজিল করেছিল ২২ ও ১৯ গোল।
এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে অবশ্য হাঙ্গেরি অনেক এগিয়ে। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে হাঙ্গেরি করেছিল ২৭ গোল। একই বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানি ২৫ গোল করেছিল।