দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে ফেরা। আর সেই ফেরার উপলক্ষ্য কী দারুণভাবেই না রাঙিয়ে রাখল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)! পর্তুগালের মতো ফেবারিট দলের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ করেছে ১–১ গোলে সমতায় থেকে। জোয়াও নেভেসের গোলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল শুরুতে এগিয়ে গেলেও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ইয়োয়ান উইসার দুর্দান্ত এক হেডে রূপকথার মতো উল্লাসে মাতে কঙ্গো।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে রেখে নিজেদের চেনা ছন্দে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে পর্তুগাল। কঙ্গোর রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখে ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটেই সাফল্যের দেখা পায় তারা। বাঁ প্রান্ত থেকে পেদ্রো নেতোর বাড়ানো নিখুঁত এক ক্রসে ডি-বক্সের ভেতর লাফিয়ে উঠে চমৎকার হেডে বল জালে জড়ান জোয়াও নেভেস। কঙ্গোর পাঁচ ডিফেন্ডারের উপস্থিতিতেও তুলনামূলক কম উচ্চতার নেভেস যেভাবে হেডে গোলটি করলেন, তা ছিল দেখার মতো। এক গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর অবশ্য দমে যায়নি কঙ্গো। বরং খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠার চেষ্টা করতে থাকে তারা।
ম্যাচের ১৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল পর্তুগাল। ব্রুনো ফের্নান্দেসের রক্ষণভেদী পাস ধরে নুনো মেন্দেস যখন শট নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই কঙ্গোর রাইট-ব্যাক অ্যারন ওয়ান-বিসাকা তাঁর চিরচেনা স্লাইডিং ট্যাকেলে দলকে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে রক্ষা করেন।
প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময় শেষে ৪ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলেও ম্যাচের রোমাঞ্চ তোলা ছিল পঞ্চম মিনিটের জন্য। এমবেম্বার কল্যাণে পাওয়া একটি কর্নার থেকে ছোট পাসে বল পান আর্থার মাসুয়াকু। পর্তুগালের ব্যাক পোস্টে তখন কঙ্গোর খেলোয়াড়দের আধিক্য । মাসুয়াকুর দূরপাল্লার নিখুঁত ক্রসটি খুঁজে নেয় সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় থাকা ইয়োয়ান উইসাকে। দারুণ এক লাফে পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়োগো কোস্তাকে পরাস্ত করে উইসা বল জালে পাঠান। আর তাতেই ৫২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে গোলের আনন্দে মাতোয়ারা হয় কঙ্গোর ফুটবলাররা।