অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় ভরা এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে লড়াকু কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আলবিসেলেস্তেরা প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে মিসরকে, যারা টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করে নকআউটের এই পর্বে পা রেখেছে। আটলান্টা স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর এই ম্যাচ শুরু হবে মঙ্গলবার রাত ১০টায়।
শেষ ষোলোয় উঠতে বেশ ঘামই ঝরাতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। মায়ামির মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। গ্রুপ পর্বে কোনো ম্যাচ না হেরে, ৩টি ড্রয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে আসা কেপ ভার্দে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ম্যাচের ২৯ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের পাস থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে বিরতির পর ৫৯তম মিনিটে রায়ান মেন্ডেসের ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক গোলে কেপ ভার্দেকে ১-১ সমতায় ফেরান দেরোয় দুয়ার্তে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো গোল না হওয়ায় তীব্র উত্তেজনা নিয়ে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আবারও নাটকের মোড় ঘোরে। ৯২ মিনিটে কর্নার থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের শটে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস। কিন্তু আফ্রিকার লড়াকু দলটি দমে যায়নি। ১০৩ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ইয়ানিক সেমেদোর পাস থেকে সিডনি ক্যাব্রাল গোল করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২।
যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি টাইব্রেকারের দিকে যাচ্ছে, ঠিক তখনই ১১১ মিনিটে আসে আর্জেন্টিনার সেই কাঙ্ক্ষিত জয়সূচক গোল। লিওনেল মেসির নিখুঁত কর্নার কিক থেকে বক্সে শূন্যে ভেসে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়ান ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। এই গোলের জোগান দিয়ে কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯টি অ্যাসিস্টের একক মালিক হন মেসি। সেই সঙ্গে ২০০৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত টানা ছয় বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করার অনন্য নজির গড়েন তিনি।