আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে লিওনেল মেসি। দল জেতানো পারফরম্যান্সের পর প্রশংসায় ভাসছেন এলএমটেন। মেসি যখন দারুণ সময় পার করছেন, তখন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য বিশ্বকাপের শুরুটা হয়েছে ভুলে যাওয়ার মতো।
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ের ম্যাচটা পর্তুগালের বাকি ফুটবলারদের চেয়ে একটু বেশিই পীড়া দিচ্ছে রোনালদোকে। আফ্রিকান দলটির বিপক্ষে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে নিষ্প্রভ ছিলেন সাত নম্বর জার্সিধারী ফুটবলার। ম্যাচজুড়ে নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন। এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর সমালোচনার কাঠগড়ায় রোনালদো। একই সঙ্গে সামনে এসেছে তাঁর গোল খরার বিষয়টিও।
বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পর্তুগালের হয়ে গোল খরা অব্যাহত রয়েছে রোনালদোর। সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে বহু বছর ধরে নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেও, বড় টুর্নামেন্টে পর্তুগালের হয়ে ৪ বছর গোল পান না তিনি। সবশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন। সেই বিশ্বকাপে পরবর্তীতে উরুগুয়ে, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ খেলে গোলশূন্য ছিলেন রোনালদো।
এরপর ২০২৪ ইউরোতে চেক প্রজাতন্ত্র, তুরস্ক, জর্জিয়া, স্লোভেনিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে পাঁচটি ম্যাচে খেলেও কোনো গোল পাননি রোনালদো। সবশেষ চলমান বিশ্বকাপে কঙ্গোর বিপক্ষেও জালের দেখা পাননি। ম্যাচটিতে পুরো ৯০ মিনিট খেললেও গোলের কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তারকা ফুটবলার। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ বিশ্বকাপের পর থেকে বড় টুর্নামেন্টে পর্তুগালের হয়ে টানা ১০ ম্যাচে গোল পাননি রোনালদো।
বড় আসরে দীর্ঘ গোল খরা এখন নতুন করে রোনালদোর ভূমিকা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বয়স, ভূমিকা পরিবর্তন এবং কৌশলগত সীমাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষের দিকে কি না, সেটা নিয়ে আলোচনা চলছে ফুটবল বিশ্বে।