মিসরের অন্যতম সফল কোচ হোসাম হাসানকে বরখাস্ত করেছে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিতর্কিত ঘটনাও রয়েছে তাঁর। তবে ব্যক্তিগত জীবনের একটি মামলার জেরে মিসরের সুপ্রিম কাউন্সিল ফর মিডিয়া রেগুলেশন তাঁর ওপর গণমাধ্যমে উপস্থিতির নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এসব ঘটনার প্রভাবে জাতীয় দলের ভাবমূর্তি ও স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় তাঁকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গতকাল এক বিবৃতিতে ইএফএ জানায়, হাসানের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা হয়েছে। এসব ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব জাতীয় দলের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর পড়েছে। এ কারণেই হোসাম হাসান ও তাঁর কোচিং স্টাফের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। ঠিক তিন দিন আগে মিসরের কোচ হাসানের ব্যক্তিগত জীবন ও সাবেক স্ত্রীকে নিয়ে একটি মামলার কারণেই মূলত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া এসেছে।
মিসরের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসানের আইনজীবীরা তাঁর সাবেক স্ত্রী দিনা মোস্তফার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি ‘ড্যান অ্যাডাম’ নামে পরিচিত। অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি নথি জালিয়াতি ও একই সময়ে একাধিক বিয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে দিনা মোস্তফার প্রতিনিধিরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কোচ হাসানের বরখাস্তের পর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্লাব দল সিরামিকা ক্লিওপেট্রার বর্তমান কোচ আলী মাহেরকে।
ইএফএর এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, হাসানের ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক জাতীয় দলকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি করেছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপে মিসর শেষ ষোলোতে পৌঁছানোর পর থেকেই নানা বিতর্কে চাপে ছিলেন হাসান। বিশ্বকাপে এটাই মিসরের সেরা সফলতা।
২০২৪ সালের মার্চে দায়িত্ব নেওয়া হাসানের অধীনেই আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের সেমিফাইনালে উঠেছিল মিসর। তবে সাবেক স্ট্রাইকারের কোচিংয়ে শেষ পর্যন্ত চতুর্থ হয় দলটি। গত সেপ্টেম্বরে সাবেক মিসরীয় ফরোয়ার্ড মিদো পরিস্থিতিকে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান তিনি।
১৩ নভেম্বর মালাউইয়ের বিপক্ষে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলবে মিসর। এই ম্যাচে মিসর স্বাগতিক। ১৭ নভেম্বর তাদের আতিথেয়তা দেবে মালাউই। মালাউই-মিসরের এই ম্যাচটি আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের বাছাইপর্বের অন্তর্ভুক্ত।