অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয় শব্দগুলোও যেন কুরাসাও গোলরক্ষক এলয় রুমকে বর্ণনা করার জন্য যথেষ্ট নয়। কানসাস সিটিতে আজ ইকুয়েডরের সামনে রুম বনে গেলেন ‘চীনের মহাপ্রাচীর’। প্রতিপক্ষের একের পর এক আক্রমণ কী অবলীলায় ঠেকিয়ে দিয়েছেন কুরাসাও গোলরক্ষক। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কুরাসাও রুখে দিল ইকুয়েডরকে।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর গ্যালারিতে হলুদ সমর্থকদের হতাশা আর মাঠে ইকুয়েডরের ফুটবলারদের কান্নায় শুয়ে পড়ার ঘটনা যেন আজ কানসাস সিটিতে ইকুয়েডর-কুরাসাও ম্যাচের প্রতীকী চিত্র হয়ে থাকল। কুরাসাওয়ের ফুটবলাররা কেঁদেছেন। তবে সেটা মূলত ‘খুশির কান্না’। পরক্ষণেই তাঁরা উল্লাস করেছেন। একে অন্যের ঘাড়ে উঠে যেভাবে উদ্যাপন করেছেন, তাতে বোঝা গেছে কুরাসাওয়ের কাছে এই ড্র জয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। ম্যাচ শেষ হলো গোলশূন্য ড্রয়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই কুরাসাওয়ের রক্ষণদুর্গে হানা দিতে থাকে ইকুয়েডর। ৩ মিনিটে ইকুয়েডর মিডফিল্ডার মইসেস কাইসেদো চিপ করে এনের ভ্যালেন্সিয়ার কাছে দিয়েছেন। তবে ভ্যালেন্সিয়ার শট প্রতিহত করেছেন কুরাসাও গোলরক্ষক রুম। শুরুতে ইকুয়েডরের গোল বাঁচিয়ে ইকুয়েডর গোলরক্ষক বুঝিয়ে দিলেন, মর্নিং শোজ দ্য ডে। পরবর্তীতে নবাগত দলটির রক্ষণদুর্গে বারবার আক্রমণ করা গেলেও রুম দারুণভাবে প্রতিহত করেছেন। ইকুয়েডরের ফুটবলারদেরও ফিনিশিংয়ে দুর্বলতা দেখা গেছে।
কুরাসাও-ইকুয়েডরের প্রথমার্ধ গোলশূন্য ড্রয়ের পর দ্বিতীয়ার্ধে গোলের আশায় ছিলেন ভক্ত-সমর্থকেরা। ইকুয়েডরের ফুটবলাররা একের পর এক চেষ্টা করে গেছেন। কিন্তু রুম যেভাবে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আর কী করার থাকে! আক্ষরিক অর্থেই কোনো ‘রুম’ পাননি ইকুয়েডরের ফুটবলাররা। যতই সময় পেরিয়েছে, জন ইয়েবোয়াহ, কাইসেদো, ভ্যালেন্সিয়ারা গতির সঞ্চার করেছেন। বারবার হানা দিয়েছেন কুরাসাওয়ের রক্ষণদুর্গে। কিন্তু রুমের পাশাপাশি তাঁর সতীর্থ ডিফেন্ডাররাও দারুণভাবে সামলেছেন ইকুয়েডরের আক্রমণ।
রুম যেমন একের পর এক আক্রমণ ঠেকাচ্ছিলেন, কুরাসাও গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। ৬১ মিনিটে কুরাসাও ডিফেন্ডার শেরেল ফ্লোরানুস প্রথমে পাস দেন জুনিনিও বাকুনার কাছে। বাকুনা ব্যাকহিলে তা পৌঁছে দেন লিভানো কোমেনেনসিয়ার কাছে। যে কোমেনেনসিয়া জার্মানির বিপক্ষে কদিন আগে গোল করে কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোলরক্ষক বনে গেলেন। কিন্তু আজ ইকুয়েডরের বিপক্ষে গোল করতে পারেননি।
রুম আজ যেভাবে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাতে ফিরতি চেষ্টাতেও ইকুয়েডর লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। রিবাউন্ডে দারুণভাবে বল ঠেকিয়েছেন কুরাসাও গোলরক্ষক। শেষের দিকে ইকুয়েডরের ফুটবলাররা এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন যে তারা ঠিকমতো লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। অন্যদিকে কুরাসাও অপেক্ষা ছিল কখন শেষ বাঁশি বাজবে। কারণ, নবাগত এই দলটির যে হারানোর কিছু নেই। জিতলে তো ‘বোনাস’। সেখানে ড্র করে ক্যারিবীয় এই দলটি নাম লিখিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। ম্যাচ শেষে ইকুয়েডরের হতাশা আর কুরাসাওয়ের উল্লাস বলে দিয়েছে অনেক কিছুই।