বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে প্রথমার্ধেই পুরোপুরি চালকের আসনে বসেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই কোচ কার্লো আনচেলত্তির আস্থার দারুণ প্রতিদান দিলেন মাথিয়াস কুনিয়া। এই ফরোয়ার্ডের চমৎকার জোড়া গোলে ম্যাচের ৩৬ মিনিটের মধ্যেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে সেলেসাওরা।
মরক্কোর বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে আশানুরূপ খেলতে না পারায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ইবানেস ও ইগর থিয়াগো। হাইতির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে তাঁদের বেঞ্চে বসিয়ে অভিজ্ঞ দানিলো ও ফরোয়ার্ড মাথিয়াস কুনিয়াকে একাদশে আনেন আনচেলত্তি। ইতালিয়ান কোচের সেই ট্যাকটিক্যাল চাল যে শতভাগ সফল, প্রথমার্ধেই তা প্রমাণ করলেন কুনিয়া।
ম্যাচের ৩৬ মিনিটে ব্রাজিলের ফুটবলীয় সৌন্দর্যের চমৎকার এক প্রদর্শনী থেকে আসে দ্বিতীয় গোলটি। মাঝমাঠে লুকাস পাকেতার বাড়িয়ে দেওয়া বল ধরে আক্রমণে ওঠেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। হাইতির রক্ষণভাগকে স্তব্ধ করে বক্সের ভেতর থাকা কুনিয়াকে লক্ষ্য করে নিখুঁত এক রক্ষণচেরা থ্রু পাস বাড়ান ভিনি। নিখুঁত টাইমিংয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের এক দর্শনীয় শটে হাইতির জাল কাঁপান কুনিয়া।
ফিলাডেলফিয়ায় এর আগে ম্যাচের ২৩ মিনিটের মাথায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে ডেডলক ভাঙে ব্রাজিল। বাঁ প্রান্ত দিয়ে ভেতরে কেটে ঢুকে হাইতির রক্ষণভাগকে নাচিয়ে একটি চমৎকার বাঁকানো শট নেন ভিনিসিয়ুস। হাইতিয়ান গোলরক্ষক প্লাসিড শটটি ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দিলেও বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি। ফিরতি বলটি বক্সের ভেতরে পড়লে তা জালে জড়াতে কাল ক্ষেপণ করেননি ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড কুনিয়া। শুরুতে এটি আত্মঘাতী গোল মনে হলেও ভিএআর রিভিউ শেষে গোলটি কুনিয়ার নামেই বহাল রাখা হয়।
গোল নিশ্চিত হওয়ার পর সতীর্থদের অভিনন্দনে ভেসে মাঠের কোণায় গিয়ে নিজের চেনা ‘সার্ফিং উদযাপন’ প্রদর্শন করেন কুনিয়া, যা গত মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলার সময় তিনি বেশ জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন। এই গোলের আগে অবশ্য ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতি বেশ ভালো প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।