বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের পরবর্তী প্রধান কোচ কে হচ্ছেন, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। প্রধান কোচের পদের জন্য বাফুফের গঠিত যাচাইবাছাই কমিটি ২২ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেছে, যেখানে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার কোচদের নামও আছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাফুফের নির্বাহী সদস্য ও জাতীয় দল কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন।
গত ৩০ এপ্রিল শেষ হয়েছে আবেদনপত্র। যেখানে ৩০০ কোচ আবেদন করলেও যাচাই বাছাই কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয় তালিকা ছেটে ফেলার। আজ বাফুফে ভবনে ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রধান কোচের জন্য ২২ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করেছি আর গোলকিপিং কোচ ১৪ জনকে নির্বাচিত করেছি।’
কাল রয়েছে জাতীয় দল কমিটির সভা। প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে ব্রাজিল–আর্জেন্টিনার কোচও। যদিও লাতিন আমেরিকা দুই দেশ থেকে গত এক দশকে কোচ নিয়োগ দেয়নি বাফুফে। ইকবাল হোসেন বলেন, ‘তালিকায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার কোচও আছে। আমাদের কাছে সংক্ষিপ্ত তালিকায় যাদের সিভি দেখে মনে হয়েছে যে তাদের জাতীয় দলে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে, তাদেরই রাখা হয়েছে।’
জাতীয় দল কমিটির সভায় কোচের তালিকা তোলার আগে বাছাইয়ের মানদণ্ড নিয়ে ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রো-লাইসেন্সকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। যাদের প্রো-লাইসেন্স ছিল না, তাদের শুরুতেই তালিকা থেকে বাদ দিয়েছি। এছাড়া কোচদের অভিজ্ঞতা, টেকনিক এবং বর্তমানে তাঁরা কোথায় কাজ করছেন, সেই বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে।’
তালিকায় থাকা কোচদের বয়স ৪০ থেকে ৬০ বছর হলেও অভিজ্ঞতার কারণে ৬৫ বছর বয়সী কোচকেও তালিকায় রাখা হয়েছে। বাফুফে খুব দ্রুতই এই ২২ জনের তালিকা থেকে ৩-৪ জনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে আসবে এবং তখন খেলোয়াড়দের পছন্দের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমরা কিন্তু কোনো কোচের সাথে সরাসরি এখনও কথা বলিনি। সত্যি কথা যেটা আমরা কোনো কোচের সাথে এখনও সরাসরি কথা বলিনি। ম্যানেজমেন্ট কমিটি কাল সিদ্ধান্ত নেবে কার সঙ্গে কথা বলবে।’
কোচের পারিশ্রমিক নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘ভালো কোচ সে যেকোনো জায়গায়ই ভালো করতে পারে। তাঁর প্রতিভা কোনো না কোনোভাবে বের করবেই। ভালো কোচ আনতে হলে তো ভালো পয়সা খরচ করতেই হবে।’
গত এপ্রিলে শেষ হয়েছে সাবেক কোচ হাভিয়ের কাবরেরার মেয়াদ। ৪ বছরেরও বেশি সময় বাংলাদেশের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।